গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০৯ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

৪০ বছরে কে-পপের রানি বোয়া, তিনি জাপানে এত জনপ্রিয় কেন

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
৪০ বছরে কে-পপের রানি বোয়া, তিনি জাপানে এত জনপ্রিয় কেন

বিটিএস কিংবা ব্ল্যাকপিংক বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার অনেক আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেন বোয়া। বিশেষ করে জাপানের সংগীতবাজারে তাঁর সাফল্য বদলে দিয়েছিল কে-পপের সম্ভাবনার হিসাব।

ভাষা ও সংস্কৃতির বাধা পেরিয়ে তিনি প্রমাণ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার একজন শিল্পীও জাপানের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে শীর্ষস্থান দখল করতে পারেন। আজ ৫ নভেম্বর ৪০ বছরে পা রাখলেন এই সংগীতশিল্পী।

প্রায় ২৬ বছরের সংগীতজীবনে নিজের অর্জনের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের কে-পপ শিল্পীদের জন্যও তৈরি করেছেন পথ।

১৯৮৬ সালের ৫ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে জন্ম বোয়ার। তাঁর পুরো নাম কোওন বোয়া। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সংগীতজগতে অভিষেক হয় তাঁর। ২০০০ সালের ২৫ আগস্ট প্রকাশিত হয় প্রথম অ্যালবাম ‘আইডি; পিস বি’।

এর আগে ১৯৯৮ সালে এসএম এন্টারটেইনমেন্টের নজরে আসেন তিনি। এরপর প্রায় দুই বছর চলে গান, নাচ ও ভাষার প্রশিক্ষণ। শুরু থেকেই তাঁকে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

বোয়া

জাপানে সাফল্যের শুরু

২০০১ সালের ৩০ মে ‘আইডি; পিস বি’ গানের জাপানি সংস্করণ দিয়ে জাপানের সংগীতবাজারে অভিষেক হয় বোয়ার। পরের বছর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম জাপানি অ্যালবাম ‘লিসেন টু মাই হার্ট’। অ্যালবামটি জাপানের জনপ্রিয় ওরিকন চার্টের শীর্ষে ওঠে। বিক্রির দিক থেকেও পায় মিলিয়ন সেলারের স্বীকৃতি।

এরপর ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয় ‘ভ্যালেন্তি’। অ্যালবামটির বিক্রি ছাড়ায় ১২ লাখ কপি। ‘বেস্ট অব সোল’ অ্যালবামটিও মিলিয়ন সেলারের স্বীকৃতি পায়। জাপানের জনপ্রিয় বর্ষশেষের সংগীতানুষ্ঠান ‘কোহাকু উতা গাসেন’-এ টানা ছয় বছর অংশ নেন বোয়া, ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত।

জাপানের বাজারে বোয়ার এই সাফল্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতশিল্পীদের জন্য বড় ঘটনা। তখন জাপানের সংগীতাঙ্গনে স্থানীয় শিল্পীদের প্রভাব ছিল প্রবল। সেই বাজারে একজন কোরীয় শিল্পীর শীর্ষস্থান দখল করা সহজ ছিল না।

বোয়া নিয়মিত গান প্রকাশ, জাপানি ভাষায় দক্ষতা এবং স্থানীয় শ্রোতাদের রুচি বুঝে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর সাফল্যের পর অন্য কোরীয় শিল্পীদের জন্যও জাপানের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ে।

বোয়া

এশিয়া পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে

জাপানে সাফল্যের পর বোয়া নজর দেন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। ২০০৯ সালের মার্চে প্রকাশিত হয় তাঁর ইংরেজি ভাষার অ্যালবাম ‘বোয়া’। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ১২৭ নম্বরে জায়গা করে নেয়। কোনো দক্ষিণ কোরীয় শিল্পীর অ্যালবাম হিসেবে এটি ছিল ওই চার্টে প্রথম প্রবেশের ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের মতো বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও বোয়ার এই উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তখন কে-পপের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আজকের মতো বিস্তৃত ছিল না। বিদেশি ভাষায় গান প্রকাশ, স্থানীয় শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভিন্ন সংগীতসংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তাঁর ক্যারিয়ারেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‘কে-পপ সংস্কৃতিতে আমরা প্রেম করতে পারি না’
বোয়া

নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

কে-পপের আন্তর্জাতিক বিস্তারের ইতিহাসে বোয়ার নাম তাই আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। বিটিএস, ব্ল্যাকপিংক কিংবা টোয়াইসের মতো গ্রুপগুলো বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগেই তিনি এশিয়ার সংগীতবাজারে কোরীয় শিল্পীদের সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন। জাপানে তাঁর সাফল্য পরবর্তী সময়ে গার্লস জেনারেশন ও এক্সোর মতো শিল্পীদের জন্যও নতুন বাজারের দরজা খুলতে সহায়তা করে।

শুধু গায়িকা হিসেবেই নয়, গীতিকার, সুরকার ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন বোয়া। ২০২৪ সালে এসএম এন্টারটেইনমেন্টের নতুন গ্রুপ এনসিটি উইশের প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর জনপ্রিয় কোরীয় টেলিভিশন নাটক ‘ম্যারি মাই হাজব্যান্ড’-এ অভিনয় করেও আলোচনায় আসেন তিনি।

২০২৫ সালে সংগীতজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত হয় তাঁর ১১তম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘ক্রেজিয়ার’। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর এসএম এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে ২৫ বছরের সম্পর্কেরও সমাপ্তি ঘটে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। পরে নিজের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বাপাল এন্টারটেইনমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে নতুন অধ্যায় শুরু করেন বোয়া।

কোরিয়া টাইমস, কেবিএস ও বাপাল এন্টারটেইনমেন্ট অবলম্বনে

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।