গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৪ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম

কচুরিপানার দখলে ধনাগোদা নদী, বন্ধ নৌযান চলাচল

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
কচুরিপানার দখলে ধনাগোদা নদী, বন্ধ নৌযান চলাচল

একসময় বৃহত্তর মতলবের নৌযান চলাচলের প্রধান পথ ছিল ধনাগোদা নদী। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত নদীটি। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই নদী এখন কচুরিপানার দখলে। 

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কালীপুর থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জমেছে কচুরিপানার স্তূপ। বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল ও কয়েকটি লঞ্চঘাট। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও নৌযান শ্রমিকরা। কালীরবাজার লঞ্চ ঘাট থেকে শ্রী রায়েরচর ব্রিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একেবারেই বন্ধ হয়ে রয়েছে নৌযান চলাচল। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীরায়েরচর ব্রিজ থেকে কালিরবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীজুড়ে কচুরিপানার ঘন স্তর। মতলব ধনাগোদার খেয়াঘাট, দুর্গাপুর, শ্রীরায়েরচর, বাংলাবাজার, রায়েরকান্দি, কালিরবাজার, নন্দলালপুর, বাইশপুর, গাজীপুর মোড়, সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, টরকী, মাছুয়াখাল, শাহপুর ও নায়েরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র। আটকে পড়েছে কয়েকটি বালুবাহী বাল্কহেড।

শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে তারা শ্রীরায়েরচর ব্রিজ এলাকায় আটকে আছেন। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় নৌযানেই দিন কাটছে তাদের।

নদীর এমন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। দাউদকান্দি অংশ থেকে ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসা শিক্ষার্থীদের নদীপথ ব্যবহার করতে না পেরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী রুহান, ফাতেমা ও জান্নাতী আক্তার জানান, নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় তাদের যাতায়াতে চরম সমস্যা হচ্ছে। আগে যে পথে সহজে যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে।

ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম বলেন, নদীর দুই পাড়ে অসংখ্য অবৈধ মাছ ধরার ঝাঁক রয়েছে। এসব ঝাঁকে কচুরিপানা আটকে থাকায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত পাঁচ থেকে সাত বছরে নদীর নাব্য হ্রাস, অবৈধ দখল এবং মাছ ধরার ঝাঁক স্থাপনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীরায়েরচর ব্রিজের অপরিকল্পিত নির্মাণও পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ফলে কচুরিপানা আটকে গিয়ে নদীটি এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার বলেন, ধনাগোদা নদীকে বাঁচাতে হলে অবৈধ দখল ও মাছ ধরার ঝাঁক উচ্ছেদের পাশাপাশি নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ও স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানে কচুরিপানা অপসারণ ও অবৈধ মাছ ধরার ঝাঁক উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, জেলার নদীগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর শহরসংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে ৭৩৬টি অবৈধ দখল চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। 

তিনি আরও বলেন, মেঘনা-ধনাগোদা নদীর অবৈধ দখল এবং নদীর মধ্যে কচুরিপানা ও ঝাঁক দিয়ে মাছ চাষের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নদী অবৈধ দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।