গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ এএম

এভাবে ঘরেই তৈরি করতে পারেন চুলের জন্য উপকারি তেল

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
এভাবে ঘরেই তৈরি করতে পারেন চুলের জন্য উপকারি তেল

চুলের যত্নে তেল দিলেই শুধু হবে না, কোন তেল ব্যবহার করছেন, কীভাবে ব্যবহার করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের প্রয়োজন বুঝে একাধিক তেল মিশিয়ে তৈরি করা যায় বিশেষ মিশ্রণ। চাইলে তেলের সঙ্গে যোগ করতে পারেন ভেষজ উপাদান কিংবা নির্দিষ্ট কিছু এসেনশিয়াল অয়েল। ঘরে বসেই এসব তেল তৈরি করতে হলে জানতে হবে সঠিক উপাদান, মেশানোর অনুপাত ও ব্যবহারের নিয়ম। শোভন মেকওভার বিউটি ক্লিনিক অ্যান্ড স্যালনের কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা জানাচ্ছেন চুলের যত্নে ঘরোয়া উপায়ে তেল তৈরির উপায়।

ঘরে তৈরি নারকেল তেল

বাজারের তেলের বদলে ঘরেই নারকেল থেকে তেল তৈরি করতে চাইলে ছোট আকারের তেল নিষ্কাশনযন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য ভালো মানের নারকেল বেছে নিয়ে যন্ত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বের করতে হবে।

একই পদ্ধতিতে শর্ষে থেকেও তেল নিষ্কাশন করা যায়। তবে চুলের যত্নে শর্ষের তেলের বদলে নারকেল তেল ব্যবহার করাই ভালো। তেল তৈরির সময় নারকেল প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে নিষ্কাশন ও সংরক্ষণ—প্রতিটি ধাপে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। তৈরি করা তেল পরিষ্কার ও শুকনা পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে পানি বা অন্য কোনো অপদ্রব্য মিশে না যায়।

ভেষজ উপাদানসমৃদ্ধ তেল চুলকে ভালো রাখে

দুই-তিন তেলের মিশ্রণ

চুলের যত্নে একাধিক তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য নারকেল, জলপাই ও ক্যাস্টর অয়েলের মতো তেল বেছে নেওয়া যায়। যেমন ১০০ মিলিলিটার মিশ্রণ তৈরি করতে ২০ মিলিলিটার ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে ৮০ মিলিলিটার জলপাই তেল মেশাতে পারেন।

ক্যাস্টর অয়েল ঘন হওয়ায় সঙ্গে জলপাই তেল মেশালে ব্যবহার করা সহজ হয়। অন্যদিকে নারকেল তেল চুলের শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মাথার ত্বকে খুশকি, চুলকানি বা লালচে দাগ থাকলে সমস্যার কারণ বুঝে তেল ব্যবহার করা জরুরি। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে নিজে বিভিন্ন তেলের মিশ্রণ ব্যবহার না করে চর্মরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার

টি ট্রি অয়েল

চুলের যত্নে রোজমেরি, টি ট্রি কিংবা ইউক্যালিপটাসের এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলো সাধারণ চুলের তেলের মতো নয়। এসেনশিয়াল অয়েল হলো উদ্ভিদের সুগন্ধি উপাদান থেকে তৈরি ঘন নির্যাস।

সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে নারকেল বা জলপাই তেলের মতো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হয়।

ক্যারিয়ার অয়েল হলো এমন বেজ অয়েল, যা এসেনশিয়াল অয়েলকে পাতলা করে ত্বকে ব্যবহারের উপযোগী করতে সাহায্য করে। তবে কোন এসেনশিয়াল অয়েল কতটুকু মেশাতে হবে, তা তেলের ধরন ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

চুল চিটচিটে হওয়ার কারণ শুধু ঘাম নয়, দায়ী হতে পারে এই ১০টি বিষয়

তেলে ভেষজ উপাদান

চুলের যত্নে ভেষজ উপাদান ব্যবহার করতে চাইলে নারকেল বা জলপাই তেলের সঙ্গে কিছু শুকনা পাতা ও ফুল মেশানো যায়। নিমপাতা, গাঁদা ফুল ও পাতা কিংবা ল্যাভেন্ডারের মতো উপাদান এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। উদ্ভিদের উপাদান তেলে নির্দিষ্ট সময় ভিজিয়ে রেখে তার কিছু তেলদ্রবণীয় উপাদান তেলে মিশিয়ে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় ইনফিউশন।

এভাবে তেল তৈরি করতে হলে প্রথমেই পাতা ও ফুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর পরিষ্কার, সম্পূর্ণ শুকনা পাত্রে উপাদানগুলো রেখে তার ওপর ক্যারিয়ার অয়েল ঢালতে হবে। পাত্রটি বন্ধ করে রেখে দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্দ্রতা এড়িয়ে চলা। পাতা বা ফুল ভেজা থাকলে কিংবা পাত্রে পানি ঢুকলে তেলে ছত্রাক ও জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি থাকে।

তাই ঘরে তৈরি ভেষজ তেল অল্প পরিমাণে তৈরি করা এবং দুর্গন্ধ, রঙের পরিবর্তন কিংবা ছত্রাকের লক্ষণ দেখা দিলে তা ফেলে দেওয়া উচিত। ভেষজ উপাদান ব্যবহার করলেই তেলটি জীবাণুমুক্ত বা বেশি কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

চুলের যত্নে বিশেষ করে চুলের শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা কমাতে তেল উপকারী হতে পারে। চুলের প্রয়োজন বুঝে সঠিক তেল নির্বাচন, পরিমিত ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নভাবে সংরক্ষণ—তিনটি বিষয়ই ঘরোয়া তেল দিয়ে চুলের যত্নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

চোখে কাজল দেওয়ার ৫ ভিন্ন স্টাইল

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।