গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম

রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা খাওয়ার কারণ হলো যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা খাওয়ার কারণ হলো যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারের নীতির প্রতি মানুষের অসন্তোষকে দায়ী করা হচ্ছে। একসময় রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও এবার ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছেন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়া অনেক রক্ষণশীল ভোটারও এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো সিনেট আসন পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও হেরে গেছেন। কানসাসে প্রায় এক শতাব্দী পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প যে সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রায় ১৮ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, সেখানেও তার পছন্দের সিনেট প্রার্থীকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা দুর্নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালায়। তাদের অভিযোগ ছিল, আমদানিপণ্যে ট্রাম্পের আরোপ করা উচ্চ শুল্ক এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর তার পরিবারের বিপুল অর্থ উপার্জনের বিষয়টিও প্রচারে তুলে ধরেন তারা। অন্যদিকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের সমালোচনা করে তাদের চরমপন্থি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। তবে নির্বাচনের ফল বলছে, ভোটারদের কাছে এসব ইস্যুর চেয়ে দৈনন্দিন ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে তার দলের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি যুদ্ধকেই পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। তার মতে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মূল্য দিয়ে এই যুদ্ধ কতটা লাভজনক হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত। রিপাবলিকানদের পরাজয়কে বড় বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস। তিনি বলেন, দলটির জন্য এটি প্রায় অস্তিত্বের সংকটের মতো ঘটনা। রয়টার্স ও ইউএসএ টুডের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত অধিকাংশ ভোট গণনা হওয়া প্রায় ২ হাজার ১০০ কাউন্টির মধ্যে ৯৯ শতাংশেই রিপাবলিকানরা আগের তুলনায় সমর্থন হারিয়েছে। আলাস্কা ও মিসিসিপিতে সিনেটের দুটি আসনের ফল তখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব আসনেও ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়তে পারে। সূত্র: রয়টার্স  

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।