গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৩ এএম

সাফল্য দেখার আগেই তিন সন্তানসহ চলে গেলেন সুমাইয়া

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সাফল্য দেখার আগেই তিন সন্তানসহ চলে গেলেন সুমাইয়া

‎গর্ভে তখন তিন সন্তান। সেই অবস্থায়ই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোছা. সুমাইয়া খাতুন (১৯)। স্বপ্ন ছিল ভালো ফলাফল করবেন, পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবেন। তার সেই স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটেছে পরীক্ষার ফলে। ১০টি বিষয়ের মধ্যে ৯টিতেই পেয়েছেন এ প্লাস এবং একটিতে এ গ্রেড; ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ-৫। কিন্তু এত বড় সাফল্যের খবরটি নিজেই শুতে পারলেন না। ফলাফল প্রকাশের আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন সুমাইয়া। মাত্র ১৯ বছর বয়সে গর্ভে থাকা তিন সন্তানসহ তার চলে যাওয়া পরিবারে রেখে গেছে অপূরণীয় শূন্যতা।

‎বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শুভগাছা গ্রামের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন ও মা মোছা. রেশমা খাতুন। তিনি আব্দুল মতিনের স্ত্রী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের মাথা ব্যাথা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে বগুড়ার শান্ত পলি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে স্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তার মৃত্যু হয়। 

‎মেয়ের মৃত্যুর পর প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মেয়ের ভালো ফলাফলের এই আনন্দ কার সঙ্গে ভাগ করব? মেয়েটাই তো আর বেঁচে নেই। একবার যদি নিজের ফলাফলটা দেখে যেতে পারত!

‎স্ত্রীকে হারিয়ে শোকাহত স্বামী আব্দুল মতিন বলেন, সুমাইয়ার অনেক স্বপ্ন ছিল। আমাদের অনাগত তিন সন্তানকে নিয়ে কত আশা ছিল। সে জিপিএ-৫ পেয়েছে, অথচ সেই খবর শোনার মানুষটিই আর নেই। এই কষ্ট বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।