গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০০ এএম

চিড়িয়াখানায় ভোট!

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
চিড়িয়াখানায় ভোট!

বনের রাজা ছিলেন সিংহমশাই। নাম তার ডন। গর্জনেই সব কাঁপত। কিন্তু বুদ্ধিতে? সেটা নিয়ে বনের প্রাণীদের মনে একটু সন্দেহ ছিল।

ডনের কানে কানে সব সময় কথা বলত পাশের বনের এক ছোট্ট শিয়াল। নাম তার লিডারনিয়াহু। শিয়ালের কাজ একটাই—ডনের কানে ফিসফিস করে বলা, ‘কর্তা, ওই বনে হামলা করো, এই বনে হামলা করো। এটা আমার স্বার্থের জন্য দরকার, মানে তোমার স্বার্থের জন্য দরকার! তুমি তো বনের মহান রাজা!’

ডনও শিয়ালের কথায় ওঠে-বসে। শিয়াল বলল, ‘পারস্য বিড়ালটা বড় বেয়াদব, ওর গোঁফ বাঁকা।’ ডন সঙ্গে সঙ্গে পারস্যে বোমা ফেলল। শিয়াল বলল, ‘পাশের বনের ছাগলগুলো ভালো নয়, ওরা বেশি ম্যা ম্যা করে।’ ডন সেখানেও হামলা করল। শিয়াল বলল, ‘ওই দূরের বনটাতেও একটু গর্জন দিয়ে আসো, নইলে ওরা ভাববে, তুমি দুর্বল।’ ডন সেখানেও গেল।

পেঁচা সাংবাদিক জিজ্ঞেস করল, ‘কর্তা, আপনি কি নিজের বুদ্ধিতে চলেন, নাকি শিয়ালের কানকথায় চলেন?’ ডন রেগে বলল, ‘তুমি ভুয়া খবর দাও! তুমি ফেক পেঁচা! চুপ!’

পেঁচা বলল, ‘কিন্তু কর্তা, যুদ্ধের খরচ কে দেবে?’ ডন বলল, ‘খরচ নিয়ে ভাববে না। যুদ্ধ জিতলে আমি নোবেল পাব।’

এদিকে শিয়াল কিন্তু নিজের গর্তে আরামে বসে আছে। বোমা পড়ছে অন্য বনে, রক্ত ঝরছে অন্যের আর বিল আসছে ডনের বনে। শিয়ালের গর্তে আবার নতুন এসি লেগেছে। ডন জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার গর্তে এসি এল কোথা থেকে?’ শিয়াল বলল, ‘কর্তা, এটা আপনারই দেওয়া ভালোবাসা!’

‘কর্তা, তুমি যুদ্ধ করেছ শিয়ালের স্বার্থে আর দাম বেড়েছে আমাদের ঘরে। বন্ধুকে অপমান করেছ, খেসারত দিয়েছে সাধারণ প্রাণীরা। তুমি ভেবেছ, গর্জন দিলেই ভোট পাওয়া যায়। কিন্তু ভোট তো গর্জন শোনে না, ভোট শোনে বাজারের থলে। থলে খালি হলে রাজাও খালি।’

এর মধ্যে ডন আবার পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গেও ঝগড়া বাধাল। হাতি দাদাকে বলল, ‘তুমি বেশি খাও, তোমার ওপর ট্যারিফ বসালাম।’ হাতি বলল, ‘কর্তা, আমি তোমার বন্ধু!’ ডন বলল, ‘বন্ধুত্ব ও ট্যারিফ আলাদা বিষয়!’

বানর মামাকে বলল, ‘তুমি চোর, তোমার কলা আমি নিয়ে নেব।’ বানর মামা কলা নিয়ে গাছে উঠে গেল আর নামল না।

বনের বাজারে এবার সত্যিকারের আগুন। পারস্য বনের পাশেই ছিল বড় তেলের কুয়ো। যুদ্ধ লাগতেই কুয়ো বন্ধ, তেলের দাম হু হু করে আকাশে!

মধুর দাম ডাবল। পাতার দাম ট্রিপল। বাঘের শাবক স্কুলে যাবে, গাড়িতে তেল নেই। বাঘ বাবা গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে বলছে, ‘এই গাড়ি ঠেলাই এখন আমার ব্যায়াম!’

খরগোশ মা বাজারে গিয়ে দেখে, একমুঠো ঘাস কিনতে সারা দিনের মজুরি শেষ! সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘কর্তা, তেলের দাম আকাশে কেন?’ ডন বলল, ‘তেলের দাম বাড়েনি, তোমাদের নজর বেড়েছে! তোমরা বেশি তাকাচ্ছ!’

হরিণ বুড়ো বলল, ‘কর্তা, ঘরে চাল নেই, বাচ্চারা না খেয়ে আছে।’ ডন বলল, ‘চাল কম খাও, ডায়েট করো। ডায়েট করলে আয়ু বাড়ে। আমি তো তোমাদের ভালোর জন্যই করছি!’

বনের প্রাণীরা প্রথমে ভয় পেয়েছিল। তারপর বিরক্ত হলো। তারপর রেগে গেল। পেটে খিদে থাকলে গর্জন ভালো লাগে না। খালি পেটে স্লোগানও মুখস্থ হয় না।

এবার এল মধ্যবর্তী ভোট। হাতির দল ভাবছিল, ‘ডন তো আমাদের লোক, জিতেই যাব। ডন জিতবে, শিয়ালও জিতবে।’

ভোট গুনতে গুনতে সবার চোখ কপালে! সিনেটগাছ আর হাউসগাছ দুটোই এখন নীল গাধা দলের, যাদের সবাই ‘ডেমো’ বলে ডাকে। ডনের হাতিদল দুই গাছ থেকেই ধপাস করে পড়ে গেছে।

ডন থম মেরে বসে রইল। বলল, ‘এটা কী হলো? আমি তো বনের জন্য এত করলাম! এত যুদ্ধ করলাম!’

কচ্ছপ দাদা ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। বলল, ‘কর্তা, তুমি যুদ্ধ করেছ শিয়ালের স্বার্থে আর দাম বেড়েছে আমাদের ঘরে। বন্ধুকে অপমান করেছ, খেসারত দিয়েছে সাধারণ প্রাণীরা। তুমি ভেবেছ, গর্জন দিলেই ভোট পাওয়া যায়। কিন্তু ভোট তো গর্জন শোনে না, ভোট শোনে বাজারের থলে। থলে খালি হলে রাজাও খালি।’

ডন পেছনে তাকিয়ে দেখে, শিয়ালটা তখনো কানে কানে বলছে, ‘কর্তা, মন খারাপ কোরো না। আরেকটা যুদ্ধ করো! এবার আরও বড়!’

ডন এবার একটু থেমে বলল, ‘তুমি একটু চুপ করবে? আমার ভোট গেছে, আমার গাছ গেছে, আমার মান গেছে। তোমার কী গেছে? তোমার তো গর্তে এসি বেড়েছে!’

শিয়াল মুখ বাঁকিয়ে বলল, ‘কর্তা, তুমি বদলে গেছ।’

আজ বনে নতুন স্লোগান লেখা হয়েছে গাছের গায়ে—‘গর্জন নয়, বাজারের দামই রাজা বানায়, রাজা ফেলায়। আর কানে কানে কথা শুনে রাজ্য চালালে, রাজারই কান কাটা যায়।’

গ্যাসের বাড়তি দামে দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ
আজব দেশে মীনা
কাকালাপ
রসালো Billboard
পাতি-নেতাদের নামতা
একটি প্রকল্পের আত্মকাহিনি
স্যরি!
সবজান্তা সমীপেষু

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।