রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) শিক্ষার্থীরা।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে কলেজের সামনের দুইপাশের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং সারাদিন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে কোনো শিক্ষার্থী নাম পরিচয়সহ বক্তব্য দিতে রাজি হননি ।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কলেজের সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে নানান স্লোগান দিচ্ছেন। তবে এখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ, ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ, অধ্যক্ষের পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী এই হামলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা অধ্যক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
এর প্রতিবাদে রাতেও কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো তাঁরা আবারও সড়কে নেমেছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।
নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।
সূত্র: প্রথম আলো