গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নারীদের নেতৃত্বে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ২০ কর্মশালার উদ্যোগ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নারীদের নেতৃত্বে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ২০ কর্মশালার উদ্যোগ

অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত সহায়তা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ‘হার্টস অ্যান্ড মাইন্ডস অ্যাক্রস কালচারস’ শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি উইমেন ইন লিডারশিপ ইনকরপোরেটেড (এবিডব্লিউএলআই)। বাংলাদেশি নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ উদ্যোগে ২০২৭ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০টি মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর সিডনির লিভারপুল ক্যাথলিক ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের নেতা, সমাজকর্মীসহ প্রায় ১৯০ জন অতিথি অংশ নেন।

অস্ট্রেলীয় সরকারের ‘মাল্টিকালচারাল গ্রাসরুটস ইনিশিয়েটিভস’ কর্মসূচির অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বহুসাংস্কৃতিক ও সাংস্কৃতিক-ভাষাগতভাবে বৈচিত্র্যময় (সিএএলডি) জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও সামাজিক সংকোচ দূর করা, প্রতিরোধমূলক সুস্থতা চর্চায় উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনের সময় পেশাগত সহায়তা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা।

অনুষ্ঠানে এবিডব্লিউএলআইয়ের সভাপতি ডা. নাজলী সিদ্দিকী, প্রতিষ্ঠাতা ও সহসভাপতি ইন্দ্রিলা হক এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত ভূঁইয়াসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মানসিক সুস্থতা কমিটির সদস্য ডা. নাহিদ সিদ্দিকী, ডা. শামা পারভীন, ওলগা স্কিয়াডোপোলোস ও ডা. রিতু ভার্মা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা পরিচালনা করেন আসক্তি চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ ডা. মিহির রায়।

এছাড়া ডা. রিতু ভার্মা অংশগ্রহণকারীদের শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ও হৃদস্পন্দনের সামঞ্জস্য (হার্ট কোহেরেন্স) কৌশলের ব্যবহারিক প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রাবন্তী কাজী ও সারা হোসেন।

অনুষ্ঠানে ছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ডা. শামা পারভীনের নজরুলসংগীত, নাট্যাঞ্জলি ড্যান্স স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অঞ্জলি মোহনের ভরতনাট্যম, ডা. ফাবিহা ও তার দলের বাঁশি ও ইংরেজি গানের পরিবেশনা এবং উজ্জ্বল ও শোভা ইংলেশ্বরের সংগীত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাঁশির সুরের সঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশনও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

ভারতীয়, তুর্কি, গ্রিক, চীনা, থাই ও মেসিডোনীয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।

এ প্রসঙ্গে এবিডব্লিউএলআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সহসভাপতি ইন্দ্রিলা হক বলেন, ‘মানসিক সুস্থতা কোনো বিলাসিতা নয়। ভাষা কিংবা সাংস্কৃতিক বাধার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে নিজেদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথা বলতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি উইমেন ইন লিডারশিপ ইনকরপোরেটেড (এবিডব্লিউএলআই) নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্বের বিকাশ, শিক্ষা ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে কাজ করছে। ‘বৈচিত্র্যে শক্তি, ঐক্যে নেতৃত্ব’ (Strength in Diversity, Leadership in Unity) স্লোগানকে ধারণ করে সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নারীদের নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

সংগঠনটির ২০২৭ সালের কর্মপরিকল্পনায় নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০টি মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালা আয়োজনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের কাছে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলাই এবিডব্লিউএলআইয়ের লক্ষ্য।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।