প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
সন্তানকে সকালে স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না অভিভাবকরা। স্কুলে যাচ্ছে কি না, শ্রেণিকক্ষে থাকছে কি না, ছুটির পর নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না- এসব দুশ্চিন্তা এখন অভিভাবকদের নিত্যসঙ্গী। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া, আবার কারও প্রেমের টানে পালিয়ে বিয়ে করার ঘটনায় সুনামগঞ্জে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত তিন মাসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিখোঁজের ঘটনায় ৩৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
সকালে বাবার সঙ্গে রিকশায় চড়ে স্কুলে এসেছিল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। স্কুলের গেটে মেয়েকে নামিয়ে দিয়ে চলে যান বাবা। কিন্তু ছুটির পর নির্ধারিত সময়ে মেয়েটি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করেন।
পরদিন পুলিশ তার সন্ধান পায়। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই এক তরুণের সঙ্গে নেত্রকোনায় গিয়ে বিয়ে করেছে ওই ছাত্রী। সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এ ঘটনা অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে নিখোঁজের ঘটনায় করা ৩৭টি জিডির মধ্যে ২০ শিক্ষার্থী। তাদের ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও তিনজনের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই তিনজনও পছন্দের মানুষের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে সংসার করছেন। বাকি নিখোঁজদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির চিত্রও অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া এক নবম শ্রেণির ছাত্রীর উপস্থিতির হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিন মাসে সে মাত্র কয়েক দিন স্কুলে গেছে। আগস্টে এক দিন, সেপ্টেম্বরে দুই দিন এবং অক্টোবর মাসে এক দিন উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পরিবারের দাবি মেয়ে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।
সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এক অভিভাবক বলেন, শুধু স্কুলে পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ না। সন্তান সত্যিই স্কুলে পৌঁছেছে কি না, ক্লাস করছে কি না এবং ছুটির পর কার সঙ্গে বাড়ি ফিরছে; তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অনুপস্থিতির খবর দ্রুত অভিভাবকদের জানাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত নজরদারি না বাড়লে এ ধরনের ঘটনা আরও উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ। থানার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অভিভাবকদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, ‘আপনার সন্তানের খোঁজে স্কুলে যাবেন।’
সন্তান স্কুলে যাচ্ছে কি না, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকছে কি না, তা সরাসরি স্কুলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন সেখ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে নিখোঁজ হচ্ছে। কেউ যাওয়ার পথে, কেউ ফেরার পথে, আবার কেউ স্কুলের কথা বলে বেরিয়ে আর বাড়ি ফিরছে না। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- উভয় পক্ষকেই আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স