প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চাপে ফেলতে যাচ্ছে বিরোধী দল। ইরান যুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন আইনপ্রণেতারা। অন্যদিকে, রিপাবলিকান নেতারাও নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য এই যুদ্ধকে দায়ী করছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত হেগসেথের পাশে রয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হেগসেথ খুব ভালো কাজ করছেন। তবে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দুজনই সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এই যুদ্ধে হেগসেথ ছিলেন অন্যতম সমর্থক ও প্রধান মুখপাত্র।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। পাশাপাশি সামরিক খাতে এবং যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়ন কমানোর সুযোগও তাদের হাতে রয়েছে।
প্রতিনিধি জেসন ক্রো বলেছেন, তিনি হেগসেথকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেবেন। তার অভিযোগ, হেগসেথ অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সেনাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধের বৈধতা নিয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নন, রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেও চাপের মুখে রয়েছেন হেগসেথ। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি আগামী সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আবারও উত্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। ম্যাসি বলেছেন, হেগসেথ পদত্যাগ করলে কেবল তিনি প্রস্তাবটি আর আনবেন না।
এর আগেও হেগসেথকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ম্যাসি। তবে ভোটাভুটি হওয়ার আগেই রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের অধিবেশন মুলতবি করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন হেগসেথ। ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের একটি সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটে ভুল করে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন দ্য আটলান্টিক সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক। ওই চ্যাটে হামলার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন হেগসেথসহ মার্কিন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এছাড়া ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে মার্কিন হামলা এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এসব বিষয়েও কংগ্রেসে তদন্তের পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল/এএফপি
সূত্র: কালবেলা