গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

ক্ষমতা ধরে রাখতে ‘অভ্যুত্থান’ ঘটানোর চেষ্টা নেতানিয়াহুর!

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ক্ষমতা ধরে রাখতে ‘অভ্যুত্থান’ ঘটানোর চেষ্টা নেতানিয়াহুর!
ইসরায়েলের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির বিরোধী রাজনীতিক ও সাংবাদিকেরা। তাদের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে ব্যবহার করছেন নেতানিয়াহু। মিডল ইস্ট আইয়ের বৃহস্পতিবারের (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বিরোধীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি ফিলিস্তিনি ভোট নিয়ে তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভোট জালিয়াতি, ঘুষ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে এসব তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন রা'আম ও জয়েন্ট লিস্ট দল দুটিকে রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দল দুটি একসঙ্গে নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) অভূতপূর্বভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকাই এ প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য। মঙ্গলবার শিন বেত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের সহযোগী লেখক আবদ আবু শাহাদেহকে আটক করে। সংস্থাটি আটকের কারণ হিসেবে ‘নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট তদন্তের’ কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শিন বেতের প্রধান জিনি ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা আহমাদ তিবি, সামি আবু শাহাদেহ, মানসুর আব্বাস ও আয়মান ওদেহকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। বুধবার বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের গণতন্ত্র হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ বিনা পরোয়ানায় রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করছে। শিন বেত কোনো প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করছে। বিদায়ী সরকার নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।’ পরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থান ঘটিয়ে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের’ চেষ্টার অভিযোগ তোলেন গোলান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও মঙ্গলবার একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার দাবি, নিরাপত্তা সংস্থার ভেতরে সরকারের অনুগত ব্যক্তিদের সহায়তায় নেতানিয়াহু গণতন্ত্রকে ধ্বংস এবং নির্বাচনের ফলাফল চুরি করার চেষ্টা করছেন। তার এই বক্তব্যে শিন বেতের প্রধান জিনির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জিনিকে শিন বেতের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট তুলনামূলক সংযত ভাষায় নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজপথে সহিংসতার উসকানি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার মাধ্যমে ইসরায়েলের গণতন্ত্র নস্যাৎ করার একটি ‘সংগঠিত প্রচেষ্টা’ চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানার অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার হারেৎজ পত্রিকার সাংবাদিক আমোস হারেল লেখেন, প্রধানমন্ত্রী, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং নিরাপত্তা সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের কিছু সহযোগী মিলে ইসরায়েলকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। হারেলের ভাষায়, নেতানিয়াহু ‘শাসনব্যবস্থায় অভ্যুত্থানের’ চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যবহার, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানি, সহিংসতার হুমকি এবং নির্বাচনের ফলাফল অস্বীকারের মতো কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইসরায়েলের অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম ক্যালকালিস্টের সাংবাদিক মোশে গোরালিও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তার মতে, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো একটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফল উল্টে দিতে অনুগত গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পরিচিত কৌশল অনুসরণ করছে। এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটের সাংবাদিক রোনেন বার্গম্যান বলেছেন, দেশটি বর্তমানে ‘অভ্যুত্থানের চেষ্টার’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।