গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

নেতানিয়াহুকে কি যেতেই হচ্ছে, আরব দলগুলোর সমর্থনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
নেতানিয়াহুকে কি যেতেই হচ্ছে, আরব দলগুলোর সমর্থনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে আরব দলগুলোর প্রতিনিধিরা আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। এর ফলে পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন বিরোধী জোটের এই নেতা। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলেও তাদের সঙ্গে সরকার গঠনে আপত্তি রয়েছে আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের।

গতকাল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো।

ফলাফল স্পষ্ট হলেও সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন হারজগ। আগামী রোববার তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির ভাষ্য, ২০১৫ সালের পর কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি।

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এর পরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এদিকে সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

তবে সরকার গঠনের পথ এখনো সহজ নয়। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। এর মধ্যে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি দলের আসন ৪৮টি। অন্যদিকে আরবদের নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসন ১৯টি। বিরোধীদের সবাই আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে রাজি নয়।

আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান।

আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেট মিলে যে সরকার গঠন করেছিলেন, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিবেচনাতেই সেই সরকারের সবচেয়ে খারাপ দিনও বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

তবে আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। আব্বাস বৈঠকে হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সরকার চাইলে রাআম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস। তাঁর ভাষায়, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের রক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার কারণে পরিবর্তন চান। আইজেনকটের সঙ্গে তাঁদের অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

জয়েন্ট লিস্টের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি বলেন, তাঁর দল সরকার গঠনে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। তবে সরকারকে শুধু এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা। আগামী নেসেটে দলটির ১১টি আসন থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না।

নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি

এদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনে জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়নি। ফলে আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী জোটের বৈঠক, নেতানিয়াহুকে দ্রুত সরানোর অঙ্গীকার

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।