নগদ টাকা, সোনার গয়না তো ছিলই, চোরেরা হাতিয়ে নিয়ে গেল অলিম্পিকের সোনার পদকও! ভারতের সাবেক হকি অধিনায়ক এমএম সোমায়ার বাড়িতে চুরির ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দলের জেতা সোনার পদক-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পদক চুরি গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও অধরা অভিযুক্তরা। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া সামগ্রীও।
বেঙ্গালুরুর হ্যাল থার্ড স্টেজ এলাকায় বাড়ি সোমায়ার। এলাকাটি ইন্দিরানগর থানার অন্তর্গত। গত ২৮ অক্টোবর রাতে ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় পরিবারের সঙ্গে কোডাগু যাচ্ছিলেন সোমায়া। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়ে চোরেরা। পরে প্রতিবেশীরা বাড়ির তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তারাই বিষয়টি সোমায়াকে জানান। এর পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সাবেক এই হকি তারকা।
চুরি যাওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকের সোনার পদক, ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসের রুপার পদক এবং ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমস ও ১৯৮২ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্রোঞ্জ পদক। অর্থাৎ, সোমায়ার ক্রীড়াজীবনের একাধিক স্মারকই উধাও। পাশাপাশি নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং সোনা ও রুপার গয়নাও চুরি হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাড়ির উলটো দিকের একটি বাড়ির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দুইজন সন্দেহভাজনের ছবি। ফুটেজে দেখা গেছে, ২৮ অক্টোবর রাত ২.৩৪ মিনিট নাগাদ সোমায়ার বাড়িতে ঢুকেছিল তারা। একজনের পরনে ছিল নীল জামা, অন্যজনের লাল। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধারের আহব্বান জানিয়েছেন সোমায়া। পুলিশ ইতোমধ্যেই দুটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।
ভারতীয় হকির অন্যতম পরিচিত মুখ সোমায়া দীর্ঘ দিন দলের হাফ ব্যাক পজিশনে খেলেছেন। তিনটি অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি অধিনায়কত্বের দায়িত্বও সামলেছেন। তার নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে নাইরোবিতে পুজো কাপ জেতে ভারত। ১৯৮৫ সালে অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি। এমন এক ক্রীড়াবিদের বাড়ি থেকে অলিম্পিক সোনার পদক চুরি যাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই দেশটির ক্রীড়ামহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র : এনডিটিভি
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স