প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
এক দশকে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে দেশটির বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৮৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭ লাখ ডলারে। বিশ্বব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারের নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ ছিল ১ হাজার ৭০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বেসরকারি খাতের নিশ্চয়তাবিহীন ঋণ ১৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১০৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
সরকারি ও সরকারের নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণের মধ্যে বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছে পাকিস্তানের দেনা ৫৬৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছে ৪২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছে ৭৮০ কোটি ডলার।
দেশটির সবচেয়ে বড় একক ঋণদাতা চীন। দেশটির কাছে পাকিস্তানের বকেয়া ঋণ ২২৪ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যার কাছে দেনা ১৯২ কোটি ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে পাকিস্তানের ঋণ ১৬৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের গড় মেয়াদ ১৬ বছর। এর মধ্যে চার বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় রয়েছে এবং গড় সুদের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের গড় সুদের হার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এসব ঋণ পরিশোধের গড় মেয়াদ তিন বছর, যার মধ্যে এক বছর ছাড়ের সময়।
২০২৫ সালে পাকিস্তানের ২০০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় চীন। একই বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রসারিত তহবিল সুবিধা এবং সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দেশটিকে নতুন করে ২৩০ কোটি ডলার ছাড় দেয়।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। বন্ড বিক্রি বৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের দরপতন এবং বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ঋণ দেওয়ার আগ্রহের কারণে এসব দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
তবে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়লেও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে কম আয়ের দেশগুলোকে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদ গুনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণও বেড়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই ঋণ তার আগের তিন মাস জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত জুনের শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫১০ কোটি ডলার। আগের প্রান্তিকে এ পরিমাণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪১৯ কোটি ডলার। তবে একই সময়ে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ ১৪ কোটি ডলার কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ডলারে নেমেছে।
সূত্র : ডন
সূত্র: কালবেলা