গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ইউএনও পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ইউএনও পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয়ে সরকারি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। ঘর মেরামতের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলে ফাইল প্রস্তুত ও আনুষঙ্গিক খরচের নামে বিকাশে টাকা নেয় চক্রটি। একই কায়দায় আরেক মুক্তিযোদ্ধার কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বিড়ালজুরি ও কচুয়াকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজ (৭৫) জানান, শুক্রবার সকালে বিড়ালজুরি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজম আলী খান তাকে ফোন করে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদানের টাকা এসেছে। এ বিষয়ে ইউএনওর একটি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

পরে ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি জানান, ঘর মেরামতের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে বরাদ্দের টাকা পেতে ফাইল প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে একটি নম্বরে ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে হবে।

খাইরুল আলম ফিরোজ বলেন, কোনো কিছু যাচাই না করেই তিনি ওই নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে ৪২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আজম আলী খান বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনে এক ব্যক্তি নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে এলাকায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা থাকলে তাকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের জন্য বরাদ্দ বা ভাতা রয়েছে বলেও জানান। পরে তিনি নিজের ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজকে বিষয়টি জানিয়ে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে জানতে পারেন, এটি প্রতারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু খাইরুল আলম ফিরোজ নন, একই ইউনিয়নের কচুয়াকাঠি এলাকার আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকেও একই কায়দায় ফোন করে ঘর মেরামতের বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে ৪২ হাজার টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। এটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তার কোনো দাপ্তরিক নির্দেশনা নেই। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে কাউখালী থানার ওসিকে বলা হয়েছে।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।