গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৩ এএম

৭ নভেম্বর সিপাহিদের বিপ্লবে সংহতি জানিয়েছিল জনগণ: জামায়াত আমির

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
৭ নভেম্বর সিপাহিদের বিপ্লবে সংহতি জানিয়েছিল জনগণ: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৫ আগস্টের ঘটনা ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষোভ ও প্রতিশোধের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে ৭ নভেম্বরের ঘটনা ছিল সিপাহিদের নেতৃত্বে সংঘটিত বিপ্লব, যেখানে সাধারণ মানুষ সংহতি প্রকাশ করেছিল।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সামরিক কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা, অপমান ও উপেক্ষা করার প্রতিক্রিয়া থেকেই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটেছিল। এতে সাধারণ জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে সিপাহিদের নেতৃত্বে সংঘটিত জনসমর্থনপুষ্ট বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বর সিপাহিরা বিপ্লব করেন এবং জনগণ তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

তিনি বলেন, ‘বিপ্লবটা করেছে সিপাহীরা, সংহতি করেছে জনগণ। প্রকাশ্যে এই বিপ্লবকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিল এ দেশের মানুষ।’

আলোচনায় স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন সরকার দেশের প্রায় সব ইসলামী সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অথচ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এসব সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। নির্বাচনের আগে কোরআন-সুন্নাহর ওপর কোনো আঘাত করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির বিপরীত অবস্থান নেওয়া হয়। জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরপরই সরকার জনগণের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তৎকালীন সরকারের শাসনামলে রক্ষীবাহিনী গঠনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী থাকার পরও সরকার বিশেষ একটি বাহিনী গঠন করে। তার অভিযোগ, রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না।

রক্ষীবাহিনীর হাতে ৩৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেও দাবি করেন জামায়াত আমির।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারকে বিনা বিচারে হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটিকে বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

তিনি বলেন, সে সময় দেশে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও মানুষের সম্মানহানির বিচার ছিল না। একদিকে বিরোধী মত দমন করা হয়েছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

একজন কর্মরত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ব্যাংক লুট ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

হোটেল শেরাটনের একটি স্যুটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভয়ে অভিভাবকেরা মেয়েদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

সেনাবাহিনীকে অবজ্ঞা ও অপমান করার কারণে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পেছনে সেটিও একটি কারণ ছিল বলে মনে করেন তিনি।

১৫ আগস্টের পর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে একের পর এক ক্ষমতার পালাবদল ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের পর ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত জিয়াউর রহমান বন্দি ছিলেন। ৭ নভেম্বর ভোরে সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে তাকে মুক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, সেদিন সিপাহিরা ট্যাংক নিয়ে রাজপথে নামলে মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বের হওয়া সাধারণ মানুষ তাকবির ধ্বনি দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।