প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:০৮ এএম || প্রকাশের তারিখঃ ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কুরিয়ার সার্ভিস থেকে তিনটি কার্টনভর্তি পার্সেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন দুজন। এ সময় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সন্দেহ হওয়ায় তাদের একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন কুরিয়ার কর্মীরা। গ্রেপ্তার ব্যক্তি কুমিল্লা জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল বলে জানা গেছে তবে তার সহযোগী পালিয়ে গেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যের নাম কৃষাণ বড়ুয়া (২৭)। তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তির নাম নোটন বড়ুয়া। তবে নোটন বড়ুয়ার পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নগরের নুর আহমদ সড়কে এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের কাজীর দেউড়ি শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কৃষাণ বড়ুয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে, এ ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিসটির পার্সেল ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বাচ্চু বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে ও কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিয়াজউদ্দিন বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের পণ্য চট্টগ্রামের বাইরে পাঠাতে এসএ পরিবহনে বুকিং দিয়েছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন ওই কুরিয়ার কার্যালয়ে যান। তাদের একজনের পরনে ছিল ইংরেজিতে ‘পুলিশ’ লেখা নেভি ব্লু রঙের কটি। অন্যজনের পরনে ছিল এসআরবি’র লোগোযুক্ত কালো পোলো শার্ট।
কার্যালয়ে গিয়ে তারা নিজেদের চান্দগাঁও থানা-পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দেন। কার্টনগুলোর ভেতরে অবৈধ মালামাল রয়েছে দাবি করে সেগুলো জব্দ করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় কাউন্টার ব্যবস্থাপকসহ কর্মীদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে কুরিয়ার কর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে চলে যান।
এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, প্রথম দফায় কাউন্টার থেকে ফোন পেয়ে তিনি ভিডিও কলে ওই দুজনের সঙ্গে কথা বলেন। তারা নিজেদের চান্দগাঁও থানা-পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন। কোতোয়ালি থানার আওতাধীন এলাকায় অন্য থানার পুলিশ সদস্যদের আসার কারণ জানতে চাইলে তারা চলে যান।
মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ লেখা কটি পরা ব্যক্তি আবার কার্টনগুলো নিতে আসেন। তখন তিনি কার্যালয়ে ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় কৌশলে ওই ব্যক্তিকে নিজের কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন তবে তার সহযোগী পালিয়ে যান।
কুরিয়ার ব্যবস্থাপক আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তি নিজেকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন। তার সঙ্গে আসা ব্যক্তির নাম নোটন বড়ুয়া বলে জানান। ওই ব্যক্তিকে তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য বলেও দাবি করেন। তবে তার এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন কালবেলাকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষাণ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। কুরিয়ার কর্তৃপক্ষের করা মামলায় কৃষাণ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পার্সেলগুলোর ভেতরে কী ধরনের পণ্য ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। গ্রেপ্তার ব্যক্তি কার্টনগুলোতে অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
একই শাখা থেকে আগেও তিনটি কার্টন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ:
এসএ পরিবহনের ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর একই শাখা থেকে একই কায়দায় তিনটি কার্টন নিয়ে গিয়েছিল একটি প্রতারক চক্র। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে কার্টনগুলো নিয়ে যান। তাদের কাছে অস্ত্রও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, ওই ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন না।
মোরশেদ আলম বলেন, আগের ঘটনার পর থেকে তারা সতর্ক ছিলেন। এ কারণে সোমবার রাতে আসা দুজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় একজনকে আটকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সম্প্রতি তাদের কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকেও এসআরবি-পুলিশ পরিচয়ে পণ্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ শুনেছেন তারা।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স