প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তিনি জানান, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে এ হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছেন তিনি। খবর আলজাজিরার।
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো হামলা চালাই। তারা একটি ছোট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। আমরা সেটি পাঁচ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছি।’
এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপের সুজা এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে আরও জানায়, কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।
দ্বীপটিতে বিস্ফোরণের খবরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত রয়েছে। আলজাজিরাকে সেন্টকমের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা এ-সংক্রান্ত খবর সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিতে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার এবং প্রয়োজনে স্থানান্তরের সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য এবং এগুলোর স্থানান্তরসংক্রান্ত তথ্যও এর আওতায় রয়েছে।
এর আগে সোমবার কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে ইরানি গণমাধ্যম। একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হরমুজ প্রণালিতে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ধাক্কা খাওয়ার পর শুক্রবারের হামলাই ছিল ইরানে প্রথম মার্কিন হামলা। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প।
নির্বাচনের পর থেকে ইরানকে কখনো হামলার হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো যুদ্ধের অবসান কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বাকি অংশও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংস’ করতে হতে পারে। তিনি এমন পদক্ষেপ নেবেন কি না, তা শিগগিরই জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বুধবার পেন্টাগনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বরাতে জানায়, ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এবং এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজে হাজার হাজার মার্কিন বিমান ও নৌসেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র : আল জাজিরা
সূত্র: কালবেলা