দৈনন্দিন জীবনে ত্বকের নানা ধরনের সংবেদনশীলতা, এলার্জি কিংবা ঘামাচি ও ছোট ছোট ফুসকুড়ির কারণে শরীরে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ত্বক চুলকানোর ফলে এসব ক্ষুদ্র দানা বা ঘামাচি থেকে সামান্য রস বা পানি বের হতে দেখা যায়। বিশেষ করে ইবাদত-বন্দেগির উদ্দেশ্যে ওজু করার পর বা ওজু অবস্থায় এমনটি ঘটলে সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন জাগে—এই পানি বের হওয়ার কারণে ওজু কি নষ্ট হয়ে যাবে, নাকি বহাল থাকবে?
ইসলামিক ফিকহ ও শরিয়তের সুস্পষ্ট নীতিমালার আলোকে এই সংশয়ের সমাধান তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি রেজাউল করীম আবরার। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক আলোচনায় তিনি জানান, ত্বকের কোনো স্থান বা ঘামাচি থেকে পানি বের হলে ওজু ভাঙবে কি ভাঙবে না, তা নিঃসৃত পানির পরিমাণ এবং তা গড়িয়ে পড়ার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
ফিকহি মূলনীতি ও ওজু ভঙ্গের নিয়ম
ইসলামী শরিয়তে ক্ষতস্থান থেকে তরল নির্গত হয়ে ওজু ভঙ্গের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো সেই তরলের ‘প্রবাহিত হওয়া’ বা ‘গড়িয়ে পড়া’। ফিকহে হানাফির অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার গ্রন্থ ‘আল-হেদায়া’ এবং ‘আল-মুহিতুল বুরহানী’-তে এ বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষতের স্থান থেকে যদি পানি বা তরল এমন পরিমাণে বের হয় যা গড়িয়ে পড়ার মতো বা স্থান ত্যাগ করে প্রবাহিত হয়, তবেই ওজু ভেঙে যাবে। আর যদি তরল কেবল ক্ষতমুখে ভেসে থাকে বা সামান্য বের হয় কিন্তু গড়িয়ে পড়ার মতো প্রবাহ সৃষ্টি না করে, তবে ওজু ভঙ্গ হবে না।
উল্লিখিত ফিকহি মূলনীতির আলোকে ঘামাচির বিধানকেও দুটি ভাগে দেখা হয়:
সাধারণ ছোট ঘামাচি (ওজু ভাঙবে না): সাধারণত শরীরে যেসব ঘামাচি বা ছোট ফুসকুড়ি ওঠে, তা আকৃতিতে বেশ ক্ষুদ্র হয়। এসব ঘামাচি চুলকালে যে সামান্য পানি বা রস বের হয়, তা ঘামাচি ছোট হওয়ার কারণে গড়িয়ে পড়ার মতো স্থানে পৌঁছায় না। যেহেতু এই তরল প্রবাহিত হয় না বা গাল বেয়ে নিচে নেমে যায় না, তাই ঘামাচি থেকে সামান্য পানি বের হলেও ওজু ভঙ্গ হবে না।
বড় আকৃতির ঘামাচি বা ফোস্কা (ওজু ভেঙে যাবে): তবে কোনো ঘামাচি বা ফুসকুড়ি যদি অস্বাভাবিক বড় আকারের হয় এবং তা থেকে এই পরিমাণ পানি বা রস নিঃসৃত হয় যা স্থান ত্যাগ করে গড়িয়ে পড়ে, তবে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী ওজু ভেঙে যাবে।
ইসলামের বিধান যেমন সুনির্দিষ্ট, তেমনই বান্দার জন্য অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক। দৈনন্দিন জীবনে অধিকাংশ ঘামাচি এতই ছোট হয় যে তা থেকে বের হওয়া পানি গড়িয়ে পড়ার মতো হয় না। ফলে সিংহভাগ ক্ষেত্রে ঘামাচি বা ছোট ফুসকুড়ি থেকে রস বের হলেও ওজু নষ্ট হয় না। তাই কোনো অজাগতিক বা অহেতুক ওয়াসওয়াসায় না ভুগে শরিয়তের এই মূলনীতি মনে রেখে আত্মবিশ্বাসের সাথে সালাত ও অন্যান্য ইবাদত সম্পাদন করা উচিত]।
সূত্র: কালবেলা