গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০২ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছে ব্যাপক নির্মাণযজ্ঞ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছে ব্যাপক নির্মাণযজ্ঞ

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আশপাশে নতুন করে ব্যাপক নির্মাণকাজ চলছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক মাসের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনাগুলো মেরামত করছে তেহরান। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মাইয়ারের (এমএআইএআর) বিশ্লেষকেরা নভেম্বরে তোলা স্যাটেলাইট চিত্রে রাজধানী তেহরানের কাছে কারাজের গার্মদারেহ সামরিক ঘাঁটি এবং উত্তরাঞ্চলের শাহরুদ ঘাঁটিতে মাটি খনন ও নতুন ভবন নির্মাণের চিহ্ন পেয়েছেন।

বন্দর আব্বাস ঘাঁটিতে খোরদাদ ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: আইআরআইবি

এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্স ও বিমানঘাঁটিসহ ইরানের অন্তত ১২টি সামরিক স্থাপনায় মেরামতের কাজ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চলে ইরাক সীমান্তের কাছে কেরমানশাহ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোতে নতুন ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর পূর্বে পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একাধিকবার বিমান হামলার পরও স্থাপনাটি ধারাবাহিকভাবে মেরামত করা হচ্ছে।

সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, শাহরুদ ঘাঁটির কাছে খননকাজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই এলাকার বিমানঘাঁটিতে একাধিকবার হামলা হয়েছে। এ কারণে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) উৎপাদনকেন্দ্রগুলো ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

মাইয়ারের এক বিশ্লেষক বলেন, ইরান হামলা থেকে রক্ষা পেতে সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের সাবেক সামরিক প্রধান ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মার্ক মেলেট বলেন, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণের আরেকটি সুবিধা হলো, বাইরের পর্যবেক্ষকদের পক্ষে এসব স্থাপনার পরিধি ও কার্যক্রমের অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের তালেঘান-২ স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ বাংকারে হামলার পর সেটি মেরামত ও কংক্রিট দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

ছবি: প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিএস

কারাজ ও শাহরুদেও বড় ধরনের খননকাজের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কারাজের স্যাটেলাইট চিত্রে একাধিক যানবাহন দেখা গেছে। পাশাপাশি কাছের বিমানঘাঁটিতেও উন্নয়নকাজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের অজনপ্রিয়তাকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

এদিকে হোয়াইট হাউসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ-অস্ত্রশিল্পের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে ইরানের দাবি, তাদের কাছে এখনো বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দক্ষিণ ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনার প্রবেশপথে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্রের দৃশ্য প্রচার করা হয়। গত আগস্টেও দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসের কাছে একটি সুড়ঙ্গ থেকে খোরদাদ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বেরিয়ে আসার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল।

ছবি: প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিএস

এছাড়া কোম শহরের বাইরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিকবার বোমা হামলার শিকার ফোরদো ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছেও নতুন নির্মাণকাজ ও খননের চিহ্ন শনাক্ত করেছেন মাইয়ারের এক বিশ্লেষক।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সামরিক বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, এসব তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত করাই এসব নির্মাণকাজের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান।

সূত্র : বিবিসি

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।