প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ এএম
চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী তাঁবু আর অনিশ্চিত জীবন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক গণবিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে একসঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল। শনিবার (৭ নভেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিলিস্তিনি পতাকা, ফুল ও লাল ফিতা দিয়ে সাজানো গাড়ির বহর নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। গাজার বিধ্বস্ত সড়কগুলো ঘুরে গাড়ির বহরটি ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত সি ক্লাবে পৌঁছায়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় বিয়ের মূল আয়োজন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগ ‘অপারেশন নাইটলি নাইট-৩’-এর আওতায় সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
বাস্তুচ্যুতি, অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার অবনতির কারণে যেসব তরুণ-তরুণীর পক্ষে বিয়ের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাদের সহায়তা করাই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
গণবিয়েতে অংশ নেওয়া বর সাঈদ আল-নাজ্জারের জন্য আনন্দের দিনটি ছিল ব্যক্তিগত শোকের স্মৃতিতে ঘেরা। তিনি জানান, ইসরায়েলি হামলায় তাদের পারিবারিক বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের ইয়েলো লাইনের কাছে একটি তাঁবুতে বসবাস করছেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির লটারির মাধ্যমে তিনি বিয়ের জন্য নির্বাচিত হন বলে জানান।
সাঈদ আল-নাজ্জার বলেন, ‘এই আনন্দ শুধু একজন বর কিংবা ২৫০ জন বরের নয়, এটি গাজার সব মানুষের আনন্দ।’
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মতো তিনিও নিজের বাড়ি হারিয়েছেন। এখন তার যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই।
ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও নতুন জীবন শুরুর এই আয়োজন গাজার মানুষের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স