গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

জাপান টোব্যাকোর সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিল রাশিয়া, কিসের আভাস দিলেন পুতিন

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
জাপান টোব্যাকোর সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিল রাশিয়া, কিসের আভাস দিলেন পুতিন

রাশিয়ায় অবস্থিত জাপানের বৃহৎ তামাক প্রতিষ্ঠান জাপান টোব্যাকোর চারটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত বৃহস্পতিবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়। টোকিও এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী করণীয় খতিয়ে দেখছে জাপান টোব্যাকো। এই প্রতিষ্ঠানে জাপান সরকারের মালিকানা রয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর থেকেই জাপান-রাশিয়া সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি বিতর্কিত চারটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং এক জাপানি সাংবাদিককে আটকের ঘটনায় সেই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে জাপান টোব্যাকোর ব্যবসা নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হলো।

চার ইউনিট, দীর্ঘদিনের ব্যবসা

রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, ডনস্কয় তাবাক, পেরেস্লাভল তাবাক, জেটিআই ইয়েলেতস ও ক্রেস নেভা—এই চার প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডিং জেএসসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসেটসের অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

জেটিআইয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকেন্দ্রগুলো সেন্ট পিটার্সবার্গ, রোস্তভ-না-দনু এবং লেনিনগ্রাদ ও লিপেৎস্ক অঞ্চলে অবস্থিত।

জাপান টোব্যাকোয় জাপান সরকারেরও সরাসরি মালিকানা রয়েছে। জেটি গ্রুপের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের হাতে রয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার।

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাশিয়ায় ব্যবসা করছে জেটিআই। ২০০৭ সাল থেকে দেশটির তামাক বাজারে শীর্ষস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ায় তাদের প্রায় চার হাজার কর্মী আছেন। দেশটি থেকে আসে জেটিআইয়ের মোট বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশ।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর অন্য জাপানি কোম্পানিগুলো রাশিয়ার বাজার ছেড়ে গেলেও জাপান টোব্যাকো সেখানে কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

জাপান টোব্যাকোয় জাপান সরকারেরও সরাসরি মালিকানা রয়েছে। জেটি গ্রুপের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের হাতে রয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার। আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটির ইস্যু করা শেয়ারের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরকারের মালিকানায় থাকতে হবে।

জাপান টোব্যাকোর (জেটি) সাইনবোর্ড

নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিয়ন্ত্রণ

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ।

এর জবাবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে পাল্টা ব্যবস্থা চালু করে রাশিয়া। এর আওতায় মস্কোর ভাষায়, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ নয়’—এমন দেশের প্রতিষ্ঠানের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ সরকার বা মনোনীত প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় নেওয়া যায়।

তাসের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ নাগরিকদের ওপর বিদেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রতিক্রিয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে জাপান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে সর্বশেষ পদক্ষেপের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

মস্কোর পার্কে হামলার পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর কিশোরকে আটক করল রাশিয়া

টোকিও-মস্কোতে প্রতিবাদ

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি কিহারা মিনোরু গতকাল শুক্রবার জানান, এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও। একই সঙ্গে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়া বলেন, জাপানি নাগরিক ও কোম্পানির বৈধ স্বার্থ রক্ষায় রুশ পক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতাইয়ামাও সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

এতোরোফু দ্বীপের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দ্বীপটি জাপানের হোক্কাইদোর পূর্ব উপকূলের কাছে অবস্থিত। এটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জাপান দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে

আকাজাওয়া কূটনৈতিক তৎপরতার বিস্তারিত জানাননি। তবে রাশিয়ায় জাপানি কোম্পানিগুলোর সম্পদ রক্ষায় মস্কোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

এদিকে জাপানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাই নোজদ্রেভের কাছে প্রতিবাদ জানান জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপীয়–বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কিমিতাকে নাকামুরা। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনিও ডিক্রি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু ও মোসাদপ্রধান

প্রতিবাদ জানাতে দ্রুত মস্কো যান একই ব্যুরোর উপমহাপরিচালক ইশিগাকি তোমোয়াকি। গতকাল রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় এশীয় বিভাগের প্রধান লুডমিলা জর্জিয়েভনা ভোরোবিওভার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় প্রতিবাদপত্রও দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাপানি দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দ্বীপ বিরোধ ও সাংবাদিক আটক

গত আগস্টে পুতিনের এতোরোফু দ্বীপ সফর ঘিরেও দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। হোক্কাইদোর পূর্ব উপকূলের কাছে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং জাপানের দাবি করা চারটি দ্বীপের একটি এতোরোফু।

এ ছাড়া গত মাসে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে আটক হন হোক্কাইদো শিম্বুনের এক সাংবাদিক। জাপানি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ভাষ্য অনুযায়ী, মস্কোর বৈঠকে ওই সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানিয়েছে জাপান।

হোক্কাইদো দ্বীপে জঙ্গলের ভেতরে জাপানের সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের ভবন

করণীয় খতিয়ে দেখছে জেটি

গতকাল এক বিবৃতিতে জেটি গ্রুপ বলেছে, রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম প্রযোজ্য সব বিধিবিধান ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে। চারটি ইউনিটের ওপর ডিক্রির প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিকল্প, পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পুরো গ্রুপের ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখছে তারা।

রুশ প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার কথা বলা হলেও এ ব্যবস্থার মেয়াদ কত দিন, তা স্পষ্ট নয়। এ অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চাইছে টোকিও।

সম্প্রতি বার্ষিক ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের এক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমান অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ’ ও ‘পারস্পরিকভাবে লাভজনক’ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও বলেছিলেন তিনি।

তবে জাপান টোব্যাকোর সম্পদ নিয়ে নতুন এই বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। গত বছর তাইওয়ান নিয়ে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক বিরোধ চলছে। এর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন বিরোধ জাপানের কূটনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে।

ট্রাম্পকে রুখে দিয়েছে তরুণদের ভোট

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।