গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০০ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ এএম

প্রচারে খোলামেলা ফটোশুট, আলোচনায় ম্যাডোনা–কন্যা

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রচারে খোলামেলা ফটোশুট, আলোচনায় ম্যাডোনা–কন্যা

‘পপসম্রাজ্ঞী’ ম্যাডোনার মেয়ে হিসেবে পরিচিতি তাঁর জন্মের পর থেকেই। তবে সেই পরিচয়ের বাইরে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চান লর্দেস লিওন। সংগীত, ফ্যাশন ও নাচ—তিন মাধ্যমেই নিজের সৃজনশীলতা তুলে ধরছেন তিনি। এবার নতুন গান ‘ট্র্যাম্প স্ট্যাম্প’ প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন ৩০ বছর বয়সী এই শিল্পী। গানের প্রচারে সাহসী ফটোশুটেও ধরা দিয়েছেন তিনি। খোলামেলা পোশাকে তাঁর কয়েকটি ছবি প্রকাশের পর নতুন করে তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

লর্দেস অবশ্য সংগীতজগতে পরিচিত ‘লোলা লিওন’ নামে। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নতুন একক গান ‘ট্র্যাম্প স্ট্যাম্প’। গানটির প্রচারণার জন্য আলোকচিত্রী এলিজাভেতা পোরোদিনার ক্যামেরায় বেশ সাহসী রূপে ধরা দিয়েছেন তিনি। একটি ছবিতে কালো স্বচ্ছ লেসের বডিস্যুট ও উঁচু প্ল্যাটফর্ম হিল পরে অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন। অন্য ছবিতে শরীরের ওপরের অংশের পোশাক তুলে ধরে ক্যামেরার সামনে হাজির হয়েছেন। ছবিগুলোর নান্দনিকতা ও উপস্থাপনায় রয়েছে লুর্দেসের নিজস্ব ফ্যাশন বোধের ছাপ।

তবে এই ফটোশুটের পেছনে শুধু চমক তৈরির উদ্দেশ্য নেই। নতুন গানটির বক্তব্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। লর্দেসের ভাষ্য, ‘ট্র্যাম্প স্ট্যাম্প’ মূলত নারী ও নিজের ইচ্ছেমতো জীবন যাপন করা মানুষদের ঘিরে তৈরি নেতিবাচক ধারণা থেকে মুক্ত হওয়ার গল্প। প্রজন্মান্তরের মানসিক ক্ষত, জাদুবিদ্যা এবং নারীত্বের নানা বৈপরীত্যও উঠে এসেছে গানটিতে। নিজের পারিবারিক ইতিহাসে যাঁরা নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁদের স্মরণ ও সম্মান জানানোর ইচ্ছাও ছিল তাঁর।

গানটি লিখেছেন লর্দেস ও সংগীত প্রযোজক অস্কার শেলার। প্রযোজনার দায়িত্বেও ছিলেন শেলার। পিংকপ্যান্থারেস, লিলি অ্যালেন ও কেলেলার মতো শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। গানটি প্রকাশিত হয়েছে আটলান্টিক রেকর্ডস থেকে। ফলে স্বাধীন সংগীতচর্চা দিয়ে যাত্রা শুরু করা লুর্দেসের ক্যারিয়ারে এটিকে নতুন একটি অধ্যায়ও বলা যায়।

নাম বদলে নতুন সংগীতযাত্রা
লর্দেসের সংগীতজীবন শুরু হয় ২০২২ সালে। তখন ‘লোলাহল’ নামে প্রকাশ করেন প্রথম একক গান ‘লক অ্যান্ড কি’। গানটি প্রকাশিত হয়েছিল শিল্পী আর্থ–আটারের স্বাধীন লেবেল ক্যামিক্যাল এক্স থেকে। গানটির ভিডিও পরিচালনা করেছিলেন আর্থ–আটার, আর কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন লর্দেস নিজেই। একই বছর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম ইপি ‘গো’।

শুরুর দিকে সংগীতের পাশাপাশি নাচ ও মডেলিংয়েও মনোযোগী ছিলেন লর্দেস। ২০২৪ সালে জিকিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সংগীতচর্চার ভিন্নধর্মী দিক উঠে আসে। নিউ অরলিন্সে কয়েক দিনের শিল্পী আবাসন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্থানীয় জ্যাজ সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে পরিবেশনাও করেছিলেন তিনি।

লর্দেস লিওন। রয়টার্স

২০২৬ সালে নিজের নামের পরিচয়েই সংগীত প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন লর্দেস। মে মাসে প্রকাশ করেন ‘টি–শার্ট’। গানটি নিয়ে ডব্লিউ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এটি একটি অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের অভিজ্ঞতা এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার গল্প। গানের ভিডিওতে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও রেখেছিলেন তিনি। তাঁর কাছে বন্ধুত্ব ও পারিবারিক সম্পর্ক মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় শক্তি।
তখন লর্দেস বলেছিলেন, জীবনের কঠিন সময়ে বন্ধুদের পাশে পাওয়া তাঁর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন করে নিজের শিকড় ও কাছের মানুষদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাই এখন তাঁর সংগীতচর্চার অন্যতম অনুপ্রেরণা।

ফ্যাশনজগতেও আলাদা পরিচয়
শুধু সংগীত নয়, ফ্যাশনজগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন লর্দেস। মিউ মিউ, ইভ সাঁ লরাঁ, মার্ক জ্যাকবস, বারবেরি, ক্যালভিন ক্লেইন ও মুগলারের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের প্রচারণায় কাজ করেছেন তিনি। ভার্সাচে ও বটেগা ভেনেতার মতো ফ্যাশন হাউসের হয়ে র‍্যাম্পেও হেঁটেছেন।

নাচের প্রশিক্ষণও তাঁর শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া হাইস্কুলে পড়াশোনার পর ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও পারচেজ কলেজে পড়েছেন। নাচের প্রতি আগ্রহ থেকেই মঞ্চ পরিবেশনা ও কোরিওগ্রাফিতে যুক্ত হন। নিজের গানের ভিডিও নির্মাণেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন।

লর্দেস লিওন। এএফপি

ম্যাডোনার সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলল যেভাবে
লর্দেসের ব্যক্তিগত জীবন ও সংগীতজীবনের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে মা ম্যাডোনার প্রসঙ্গ। ২০২১ সালে ইন্টারভিউ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাকে ‘কন্ট্রোল ফ্রিক’ বলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর যত দ্রুত সম্ভব মায়ের কাছ থেকে আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন। নিজের কলেজের বেতন ও প্রথম অ্যাপার্টমেন্টের খরচও নিজেই বহন করেছেন।

লর্দেসের যুক্তি ছিল, মা-বাবা সন্তানের সব খরচ বহন করলে অনেক সময় সেটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করে। তবে নিজের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে যে অসাধারণ সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, সেটিও অস্বীকার করেননি তিনি। তাঁর মতে, বিখ্যাত পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে পাওয়া সুবিধা যেমন সত্য, তেমনি নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জও বাস্তব।

ম্যাডোনাও একাধিকবার মেয়ের স্বাধীনভাবে নিজের পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। চলতি বছরের জুনে গ্রাহাম নর্টনের অনুষ্ঠানে তিনি জানান, লর্দেস দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না। মায়ের পরিচয়ের কারণে সংগীতজগতে বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন—এমন ধারণা তৈরি হোক, তা চাননি মেয়ে।
তবে সেই দূরত্ব কমাতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে ‘দ্য টেস্ট’ গানটি। ম্যাডোনার ‘কনফেশনস টু’ অ্যালবামে থাকা গানটিতে প্রথমবারের মতো মা-মেয়ে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি লিখেছেন ম্যাডোনা, লুর্দেস ও অ্যালবামের প্রযোজক স্টুয়ার্ট প্রাইস।

গানটিতে ম্যাডোনা মেয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসার পাশাপাশি অতীতের কিছু ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন। মেয়েকে সব সময় আদর্শের আসনে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও তাঁর ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে লর্দেস তুলে ধরেছেন বিশ্বখ্যাত মায়ের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা। নিজের চেহারা, পোশাক, পছন্দ ও পরিচয়ের ওপর মায়ের তারকাখ্যাতির প্রভাবের কথাও উঠে এসেছে তাঁর গানে।

মাথায় জাহাজ আর সাত সহকারী নিয়ে চমকে দিলেন ম্যাডোনা

গ্রাহাম নর্টনকে ম্যাডোনা জানান, একদিন লর্দেস নিজেই তাঁর কাছে এসে একসঙ্গে গান লেখার প্রস্তাব দেন। মেয়ের মনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ ও অভিমান প্রকাশের সুযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ। দুজনের শর্ত ছিল, প্রত্যেকে নিজের মনের কথা স্বাধীনভাবে গানে তুলে ধরবেন। ম্যাডোনার ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা তাঁদের সম্পর্কের জন্য ছিল নিরাময়কারী।

মায়ের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের পরিচয়
লর্দেসের জন্ম ১৯৯৬ সালে, ম্যাডোনা ও তাঁর তৎকালীন সঙ্গী কার্লোস লিওনের ঘরে। ছোটবেলা থেকেই মায়ের বিশ্বখ্যাতির কারণে তাঁকে ঘিরে ছিল সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ। কিন্তু সেই পরিচয়কে পুঁজি করে এগোনোর বদলে বরাবরই নিজের মতো করে চলার চেষ্টা করেছেন তিনি।

২০২২ সালে প্রথম গান প্রকাশের সময়ও সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি নিশ্চিত ছিলেন না লর্দেস। একসময় বলেছিলেন, সংগীত তাঁর কাছে খুব পরিচিত একটি জগৎ। কারণ, তাঁর মা এই জগতেরই মানুষ। তাই নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার আগে অন্যদের তৈরি করে দেওয়া পরিচয়ের মধ্যে আটকে যেতে চাননি।

ডেইলি মেইল অবলম্বনে

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।