গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

সেন্ট মার্টিনে গিয়ে এক রাত থেকে ঘুরে আসতে কত টাকা খরচ হতে পারে

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সেন্ট মার্টিনে গিয়ে এক রাত থেকে ঘুরে আসতে কত টাকা খরচ হতে পারে

পর্যটকদের জন্য খুলেছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে ঘোরা ও রাতযাপনের সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা। প্রতিদিন যেতে পারবেন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক।

চলতি মৌসুমে ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিনে গিয়ে এক রাত থেকে ঘুরে আসতে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

এর মধ্যে ঢাকা–কক্সবাজারে যাওয়া-আসার নন-এসি বাসভাড়া ২ হাজার ৪০০ টাকা, জাহাজের যাওয়া-আসার টিকিট ৩ হাজার ৬০০ টাকা, ইকোনমি হোটেল বা রিসোর্টে এক রাত থাকার খরচ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ছয় বেলা খাবারে ১ হাজার ২০০ টাকা, পরিবেশ সংরক্ষণ ফি ১০০ টাকা এবং স্থানীয় যাতায়াতে ৫০০ টাকা ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে সর্বনিম্ন জাহাজভাড়া ধরে খরচ পড়বে ৯ হাজার ৩০০ টাকা। কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ এই হিসাবের বাইরে। হোটেল, খাবার ও যাতায়াতের ধরন অনুযায়ী খরচ আরও বাড়তে পারে।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের আগে জেনে নিন প্রয়োজনীয় ৯টি তথ্য:

১. আগেই জাহাজের টিকিট কাটুন

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের দিন-তারিখ ঠিক হলে প্রথমেই জাহাজের টিকিট কাটুন। আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করলে শেষ মুহূর্তে টিকিট না পাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

২. কোন কোন জাহাজ চলবে

চলতি মৌসুমে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন নৌপথে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী, এমভি টেকনাফ চলাচল শুরু করেছে। আরও কয়েকটি জাহাজ অনুমতির অপেক্ষায় আছে। ভ্রমণের আগে চলতি মৌসুমে কোন কোন জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে, জেনে নিন।

৩. যেভাবে টিকিট কাটবেন

অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোর ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কেনা যাবে। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা নম্বরে ফোন করেও টিকিট বুকিং করা যায়। ট্রাভেল এজেন্টদের কাছ থেকেও টিকিট কিনতে পারবেন।

যাওয়া ও ফেরার টিকিট আলাদাভাবে কেনা সম্ভব। তবে ভ্রমণের তারিখ নিশ্চিত থাকলে দুই পথের টিকিট একসঙ্গে কেটে রাখা সুবিধাজনক।

আসন ও সুবিধাভেদে জাহাজে টিকিটের দাম নির্ভর করে

৪. জাহাজভাড়া কত

সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে সাধারণ সিট, বিজনেস চেয়ার, মোজারাট চেয়ার, বেড, কেবিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির আসন রয়েছে। আসন ও সুবিধাভেদে যাওয়া-আসার টিকিটের দাম ৩ হাজার ৬০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। টিকিট কাটার আগে আসনের ধরন, ভাড়া ও প্রাপ্যতা যাচাই করে নিন।

৫. পরিবেশ সংরক্ষণ ফি ও ট্রাভেল পাস

প্রত্যেক পর্যটককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি। সেন্ট মার্টিনে যেতে এবারও পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নিতে হবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ প্রক্রিয়া তদারক করে থাকে। তবে পর্যটকদের আলাদাভাবে নিবন্ধন করতে হবে না। জাহাজের টিকিট বুকিংয়ের পর প্রয়োজনীয় নিবন্ধনের কাজ জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই সম্পন্ন করবে।

৬. আগে থেকেই রিসোর্ট বুকিং করুন

সেন্ট মার্টিনে রাত্রি যাপন করতে চাইলে থাকার ব্যবস্থাও আগে থেকেই করে রাখুন। দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা আছে। দ্বীপে পৌঁছে পছন্দমতো আবাসন খুঁজতে গেলে সময় নষ্ট হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগেই রিসোর্ট বা কটেজ বুকিং করে রাখা ভালো।

সেন্ট মার্টিনে আছে নানা রকম রিসোর্ট

৭. রিসোর্টের ভাড়া কত

রিসোর্টের ভাড়া আবাসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে। প্রিমিয়াম হোটেল ও রিসোর্টে এক রাতের ভাড়া ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা, স্ট্যান্ডার্ড হোটেল ও রিসোর্টে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। ইকোনমি হোটেল ও রিসোর্টে ভাড়া ২ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

ছুটির দিন ও পর্যটনের ব্যস্ত সময়ে ভাড়া বাড়তে পারে। আবার কোনো কোনো রিসোর্টে বিশেষ ছাড়ও থাকে। বুকিংয়ের আগে ওয়েবসাইট বা বুকিং প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রিসোর্টের তথ্য, ছবি ও রেটিং দেখে নিতে পারেন। তবে বুকিং চূড়ান্ত করার আগে সরাসরি যোগাযোগ করে ভাড়া, সুযোগ-সুবিধা ও বুকিংয়ের শর্ত নিশ্চিত হয়ে নিন।

৮. জাহাজ ছাড়ার সময়

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে পৌঁছাতে হবে কক্সবাজার। সেখানকার নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকে সকালে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে জাহাজ ছেড়ে যায়। দ্বীপ থেকে বিকেলে কক্সবাজারের উদ্দেশে ফেরে জাহাজ। যাত্রার আগে জাহাজ ছাড়ার সময় ও টিকিটে উল্লেখ করা নির্দেশনা যাচাই করে নিন।

৯. কিছু বিষয় মনে রাখবেন

দ্বীপে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন। সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা, বারবিকিউ পার্টি এবং মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ। এসব বিধিনিষেধ মেনে চলুন।

বিশ্বের যে দেশে বাংলাদেশি পাবেন ভাবেননি ‘নাদির অন দ্য গো’, সেখানেই পেলেন হাজারো বাংলাদেশি

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।