গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

অনিয়ম ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, এক ক্লিকেই মিলছে সারের তথ্য

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
অনিয়ম ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, এক ক্লিকেই মিলছে সারের তথ্য
কৃষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চালু করা হয়েছে ‘অনলাইন সার মনিটরিং সিস্টেম বা ওএফএমএস (OFMS)’ নামে একটি ওয়েবসাইট। উপজেলার সরকারি ওয়েব পোর্টালে এক ক্লিকেই সারের বরাদ্দ, দৈনিক সার বিতরণ ও মজুতের পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে এ ওয়েবসাইটে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় স্বল্প ব্যয়ে প্রায় তিন মাসের প্রচেষ্টায় ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আল মামুন। কৃষকদের সারের তথ্য সহজলভ্য করা, বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, ডিলারদের অধিক জবাবদিহিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি আরও কার্যকর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ওয়েবসাইটটিতে কৃষক, ডিলার, সারের বরাদ্দ, মজুত ও বিতরণসহ সাত ধরনের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিমলা উপজেলার সার কার্ডের তথ্য আপলোডের পর একজন কৃষক নিজের এনআইডি/মোবাইল নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলেই জানতে পারবেন তার নামে কতটুকু সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কতটুকু উত্তোলন করেছেন এবং জমির পরিমাণ অনুযায়ী তার প্রাপ্য সার কত। একই সঙ্গে ডিলারদের কাছে মোট কতটুকু সার বরাদ্দ রয়েছে, প্রতিদিন কতটুকু সার উত্তোলন ও বিতরণ হচ্ছে এবং বর্তমানে কতটুকু সার মজুত রয়েছে, সেই তথ্যও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা যাবে। এ ব্যবস্থা পুরোপুরি শুরু হলে সারের হিসাব জানতে কৃষকদের আর ডিলারের দোকানে বারবার যেতে হবে না। নিজের বরাদ্দ ও উত্তোলনের পরিমাণ সহজেই যাচাই করতে পারবেন তারা। ডিলারের কাছে সার মজুত রয়েছে কি না এবং প্রতিদিন কী পরিমাণ সার বিতরণ হচ্ছে, তা জানতে পারলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও দীর্ঘ অপেক্ষা এড়ানো সম্ভব হবে। এতে কৃষকের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সার সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষক নূর হোসেন বলেন, ‘আগে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। কখনো প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যেত না, আবার কখনো ডিলারের কাছে গিয়ে অপেক্ষা করতে হতো। এখন নিজের নামে কতটুকু সার বরাদ্দ রয়েছে এবং কতটুকু উত্তোলন করেছি, তা সহজেই জানতে পারব। এতে আমাদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে।’ সার ডিলার বলাই সাহা জানান, ‘ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিলারদের বরাদ্দ, দৈনিক সার বিতরণ ও মজুতের তথ্য সংরক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে সার বিতরণের হিসাব রাখা সহজ হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, ‘কৃষকদের সারের বরাদ্দ ও উত্তোলনের তথ্য জানতে যেন বারবার ডিলারের কাছে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই ‘অনলাইন সার মনিটরিং সিস্টেম ’ ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে একজন কৃষক নিজের নামে কতটুকু সার বরাদ্দ রয়েছে, কতটুকু উত্তোলন করেছেন এবং জমির পরিমাণ অনুযায়ী তার প্রাপ্য সার কত তা সহজেই জানতে পারবেন। বর্তমানে ডিলারদের বরাদ্দ, দৈনিক সার উত্তোলন ও মজুতের তথ্যও পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। এতে কৃষকদের অযথা যাতায়াত, সময় ও অর্থের অপচয় কমবে এবং সার সংগ্রহের ভোগান্তি লাঘব হবে। একই সঙ্গে সার বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। আমরা চাই, প্রযুক্তির এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা যেন সহজে তাঁদের প্রাপ্য সার পান এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে আসে।’ ওয়েবসাইটটির নির্মাতা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘এটি তৈরি করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। কৃষকদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সহায়তা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়েবসাইটটিতে আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।