গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। সংগঠনটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন নাসিম আহমেদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানউল্লাহ। প্রধান বক্তা ও প্রধান আলোচক হিসেবে ঢাকা থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানউল্লাহ বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবিস্মরণীয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ড. আমানউল্লাহ আগামী দিনের রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা জোরদার করা এবং নতুন প্রজন্মের সামনে জাতীয় দিবসগুলোর প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে একটি দক্ষ, আদর্শনিষ্ঠ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

টেলিফোনে যুক্ত হয়ে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু পরবর্তীতে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ও ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশে গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হলে ৭ নভেম্বর সাধারণ সৈনিক ও সর্বস্তরের জনগণ সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে। ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। শহীদ জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, জাতীয় উন্নয়ন ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, সৈয়দ মুরাদুল হাসান রেজা এবং সায়েদুল হক। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, নাছিম আহমেদ খান, এটিএম হেলালুর, শেখ আলী, মোস্তাক আহমেদ, আবুল কালাম, মাজহারুল ইসলাম জনি, ইসলাম এবং জাহিদ হাসান সুমন প্রমুখ। সভায় বক্তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।