দিনে দিনে ভৈরব নদের পানি গড়িয়েছে অনেক, তার সঙ্গে প্রকৃতির নিয়মে গতিপথ বদলে তীরের বাজারের অবস্থানেও এসেছে পরিবর্তন। এখানে যখন চার্লির হাট তথা বড় বাজার গড়ে উঠেছিল, তখন নদের পাড়েই ছিল লোহাপট্টি। কালের পরিক্রমায় এখন এটি ভাসমান অবস্থায় টিকে থাকার লড়াই করছে।
লোহাপট্টির মফজেল অ্যান্ড ব্রাদার্সে কাজ করা সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ কর্মচারী ভবেশ চন্দ্র শিকদার জানান, ৫০ বছরের বেশি আগে তিনি বড় বাজারে কাজের সন্ধানে এসেছিলেন। তখন নদ আরও দূরে ছিল। খরস্রোতা ভৈরব নদ ভাঙতে ভাঙতে এখন লোহাপট্টিতে চলে এসেছে।
সরেজমিনে লোহাপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই দিক ধরে গড়ে ওঠা লোহাপট্টির যেই অংশ নদের দিকে, সেই দোকানগুলো আক্ষরিক অর্থেই পানিতে ভাসমান। এসব দোকানের নিচে কোনো মাটি নেই। নদের ভাঙনে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েই বাঁশ ও কাঠের পিলারের ওপর অস্থায়ী দোকান তৈরি করেছেন।

নদীর পাড় ও বাজার সংরক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মশিহুজ্জামান খান বলেন, ‘কয়েক বছর আগে কে এফ ডব্লিউ নামের একটি জার্মান ব্যাংক ক্লাইমেট ফান্ডের অধীন ভৈরব নদের তীরে কংক্রিটের তৈরি পাড়, হাঁটার জায়গা এবং ঘাট বানানোর জন্য অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। এটি করলে বাজারের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর ও পুনর্বাসন করতে হতো। ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরে অনিচ্ছা ও পুনর্বাসনের সক্ষমতা সিটি করপোরেশনের না থাকায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পটি এগোয়নি।’
লোহাপট্টির অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংরক্ষণে ও বড় বাজার সংরক্ষণে প্রকল্প বা পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে খুলনা সিটি করপোরেশনের চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার বলেন, বড় বাজারের জমির মালিকানা নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে বিরোধিতা রয়েছে। ফলে কোনো সংস্থাই উদ্যোগী হচ্ছে না।
লোহাপট্টির ব্যবসায়ীদের দাবি সরকার যেন বড় বাজার সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সূত্র: প্রথম আলো