রামায়ণের কাহিনিতে রাবণকে শক্তিশালী ও অহংকারী শাসক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে তার পাশে ছিলেন এমন একজন, যিনি বারবার তাকে ভুল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি মন্দোদরী, লঙ্কার রানি এবং রাবণের স্ত্রী। সীতাকে ফিরিয়ে দিয়ে যুদ্ধ এড়ানোর পরামর্শ দিলেও রাবণ তার কথা শোনেননি। নীতিবোধ ও দূরদর্শিতার কারণে রামায়ণের গুরুত্বপূর্ণ এই চরিত্রটি আবারও আলোচনায় এসেছে। নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে মন্দোদরীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন কাজল আগরওয়াল।
মন্দোদরী ছিলেন অসুরদের কিংবদন্তি স্থপতি ময়াসুরের কন্যা এবং তার মা ছিলেন অপ্সরা হেমা। ময়াসুরের কন্যা হিসেবে রাজকীয় পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন তিনি এবং পরে লঙ্কার রাজা রাবণের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ছেলে মেঘনাদ, যিনি ইন্দ্রজিৎ নামেও পরিচিত এবং রামায়ণের অন্যতম শক্তিশালী যোদ্ধা হিসেবে সুপরিচিত।
রামায়ণের কাহিনিতে মন্দোদরীকে বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সীতাকে অপহরণের পর তিনি রাবণকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে রামের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলেন। মন্দোদরী বুঝতে পেরেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত লঙ্কার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
কিন্তু রাবণ তার স্ত্রীর পরামর্শ উপেক্ষা করেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। শেষ পর্যন্ত রাম রাবণের যুদ্ধে লঙ্কার পতন ঘটে। রাবণের এই পরিণতির মধ্য দিয়ে মন্দোদরীর সতর্কবার্তার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আধুনিক সময়ের বিভিন্ন সাহিত্যিক পুনর্নির্মাণেও মন্দোদরীর চরিত্র নতুনভাবে উঠে এসেছে। আনন্দ নীলকান্তনের ‘অসুর’ উপন্যাসে রামায়ণের প্রচলিত কাহিনি রাবণের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের পুনর্কথনে মন্দোদরীর প্রজ্ঞা, মানসিক টানাপোড়েন ও নীরব কষ্টের দিকগুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
এবার বড় পর্দায় মন্দোদরীর চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী কাজল আগরওয়ালকে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে মন্দোদরীর চরিত্রের জন্য লুক টেস্ট দিয়েছেন কাজল এবং যশের বিপরীতে শুটিংও শুরু করেছেন। ছবিটির প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করছেন রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ। ছবিটির প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছে।
কাজলকে মন্দোদরীর চরিত্রে নেওয়ার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ মনে করেন, বিচক্ষণ ও সৌম্য স্বভাবের মন্দোদরীর প্রচলিত যে চিত্র তাদের মনে রয়েছে, কাজলের সঙ্গে তা মেলে না এবং এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলে। চরিত্রটির প্রস্তুতি নিতে মন্দোদরীকে নিয়ে বিভিন্ন বই পড়েছেন বলে জানিয়েছেন কাজল। তার ছোট ছেলেও রামায়ণের কাহিনি ভালোভাবে জানে এবং এমনকি বাড়িতে ছোট পরিসরে রামলীলা মঞ্চস্থ করে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
রামায়ণের যুদ্ধ ও বীরত্বের কাহিনিতে মন্দোদরীর পরিচয় কেবল রাবণের স্ত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের অবস্থান থেকে অন্যায়ের বিরোধিতা এবং বিপর্যয় এড়ানোর সঠিক পরামর্শ দেওয়ার মধ্য দিয়েই চরিত্রটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: ইন্ডল্জ এক্সপ্রেস
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স