প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
দশ বছর বয়সেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছে তাসনিম নিশাত জারা। যে বয়সে বই-খাতা হাতে শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে মেতে ওঠার কথা খেলাধুলায়, সেই বয়সে তার দিন কাটছে হাসপাতাল আর বিছানায়। অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা আর পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যে জীবন বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
গাজীপুরের শ্রীপুরের মুলাইদ এলাকার শিরিন আওলাদ মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী জারা। আট মাস ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ তার। ছয় মাস আগে ধরা পড়ে বোন ক্যানসার। এরপর থেকে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার নিম্নবিত্ত পরিবার।
জারার বাবা শহীদ বেপারীর বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায়। জীবিকার তাগিদে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা এলাকার স্বাদ গ্রুপের একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। স্ত্রী সুমাইয়া ও একমাত্র মেয়ে জারাকে নিয়ে ছিল তার ছোট সংসার। কারখানার সামান্য আয়ে কোনোভাবে চলছিল পরিবারটি। কিন্তু মেয়ের অসুস্থতা মুহূর্তেই বদলে দিয়েছে সব হিসাব।
প্রথমে জারার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে বোন ক্যানসার। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসার লড়াই।
জারার বাবা শহীদ বেপারী বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে জারা। সে আমার ঘর আলো করে এসেছে। এই বয়সেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, ধর্মকে খুব ভালোবাসে। লেখাপড়াতেও ভালো ছিল। হঠাৎ ক্যানসার আমাদের পরিবারটাকে তছনছ করে দিয়েছে। মেয়েটা যন্ত্রণায় ছটফট করে। তার মুখের দিকে তাকানো যায় না। সে শুধু জিজ্ঞাসা করে, কবে স্কুলে ফিরতে পারবে। কিন্তু আমাদের কাছে সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
তিনি বলেন, আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছি। এখন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছি। সমাজসেবা অধিদপ্তরে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেও কোনো সহায়তা পাননি বলে জানান তিনি।
জারার বাবা কারখানায় শ্রমিকের কাজ করায় সব সময় ছুটি পান না। তাই মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে হয় মা সুমাইয়াকে। একদিকে মেয়ের অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ জোগানোর অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনিও।
সুমাইয়া বলেন, নিম্নবিত্ত পরিবারে ক্যানসারের আঘাতে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। আমাদের সামনে এখন শুধুই অন্ধকার। সবকিছুর বিনিময়ে আমি মেয়ের জীবন চাই। আমার মেয়ে আবার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে, সহপাঠীদের সঙ্গে পড়াশোনা করবে, এটুকুই আমার স্বপ্ন।
শিরিন আওলাদ মডেল স্কুলের শিক্ষক হযরত আলী পারভেজ বলেন, জারা মেধাবী শিক্ষার্থী। এমন একটি বয়সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে তাকে শয্যাশায়ী থাকতে হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স