গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

ডিমেনশিয়া শনাক্তে কোটি পাউন্ডের গবেষণা প্রকল্প

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ডিমেনশিয়া শনাক্তে কোটি পাউন্ডের গবেষণা প্রকল্প

ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় গবেষণা উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ‘ব্রেইনিয়াক হাব’ নামের এ প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি খাত থেকে মোট ২ কোটি পাউন্ড অর্থায়ন করা হচ্ছে।

ডিমেনশিয়া আসলে কী? ডিমেনশিয়া এমন একটি মস্তিষ্কজনিত সমস্যা, যা মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, ভাষা ও দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। এটি স্বাভাবিক বার্ধক্য নয়; বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি জটিল রোগাবস্থা।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ছয় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে দেশটির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেস রিসার্চ কাউন্সিল (ইপিএসআরসি) ১ কোটি পাউন্ড দেবে। বাকি ১ কোটি পাউন্ড আসবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) অংশীদারদের কাছ থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের স্ক্যান, জিনগত তথ্য, রক্তের বায়োমার্কার এবং ডিজিটাল জ্ঞানীয় পরীক্ষার ফল একত্র করে ব্যক্তির মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করবে এআই ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত এবং ব্যক্তিভিত্তিক প্রতিরোধ পরিকল্পনা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাজ্যের ১০টি এনএইচএস কেন্দ্রে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যবিষয়ক ক্লিনিক চালু করা হবে। প্রথম ক্লিনিকগুলো ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরু করার কথা। শুরুতে এনএইচএসের মাধ্যমে রেফার করা ব্যক্তিরা এসব সেবা পাবেন। এতে ডিমেনশিয়া নির্ণয়ের সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি রোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির পরিচালক ও এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড লিউয়েলিন বলেন, ডিমেনশিয়া শনাক্ত করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। নতুন ক্লিনিকগুলোতে তৈরি প্রযুক্তি উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই রোগের প্রাথমিক সংকেত শনাক্ত করতে পারবে। একই সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে ব্যক্তিভিত্তিক প্রতিরোধ পরিকল্পনা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ ৮২ হাজার মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। ২০৪০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ১৪ লাখে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে রোগটির বার্ষিক অর্থনৈতিক ব্যয় ৯ হাজার কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ দ্রুত করা এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই মূল্যায়ন করা ব্যক্তিদের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের প্রাথমিক ঝুঁকি শনাক্ত করা।

সূত্র: বিবিসি

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।