গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে এবার অভিযান

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে এবার অভিযান

৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসা ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরেও যাঁরা এখনো থেকে গেছেন, তাঁদের সরাতে এবার অভিযান পরিচালনা করবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। কোন কোন সরকারি চাকরিজীবীর বাসায় এখনো সাবলেট ও ভাড়াটে থাকছে, তাদের চিহ্নিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

তবে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। ভাড়াটে কেন বাসা ছাড়েননি, সে বিষয়ে যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারলে বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে বলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সবাই বাসা ছেড়েছেন কি না, তা যাচাই করতে আবাসন পরিদপ্তরের তদন্ত দল এখন সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। কারা বাসা ছেড়েছেন আর কারা এখনো ছাড়েননি, তা নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আবাসন পরিদপ্তরের পাঁচটি তদন্ত দল ঢাকার বিভিন্ন সরকারি আবাসনে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু এলাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুরো তালিকা তৈরির কাজ এখনো শেষ হয়নি।

আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর অভিযান শুরু করা হবে। যেসব চাকরিজীবীর বাসা থেকে সাবলেট ও ভাড়াটে সরেনি, মূলত সেখানেই এই অভিযান চালানো হবে।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়ার পর অনেকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে অনেকে এখনো বাসা ছাড়েননি বলেও খবর আসছে। একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব সরকারি চাকরিজীবীর বাসা থেকে সাবলেট বা ভাড়াটে সরেনি, তাদের বাসায় এই অভিযান চলবে। কেন ভাড়াটে বাসা ছাড়েনি, সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। এরপর বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবাসন পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ২৭টি এলাকায় সরকারি আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এলাকাগুলো হলো—বেইলি রোড, সার্কিট হাউস রোড, ইস্কাটন, গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, সোবহানবাগ, আজিমপুর, পলাশী, এলেনবাড়ি, তেজগাঁও লাভ রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও সবুজবাগ, মতিঝিল, টিকাটুলি, মিরপুর-১ পাইকপাড়া, মিরপুর-৬ শিয়ালবাড়ি, মিরপুর-১০ ন্যাম গার্ডেন, শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁও।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে আজিমপুরে, ৩ হাজার ৪০৪টি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মিরপুরের পাইকপাড়ায় রয়েছে ১ হাজার ৭৩০টি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া মিরপুর-১-এর শিয়ালবাড়িতে ১ হাজার ৯১টি এবং মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে রয়েছে ১ হাজার ১১২টি ফ্ল্যাট।

রাজধানীতে সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে অনেক চাকরিজীবী নিজে না থেকে অন্যকে সাবলেট ও ভাড়া দিয়ে আসছেন। বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়ম চলে আসছে। তবে গত ২৯ অক্টোবর হঠাৎ সরকারি আবাসন পরিদপ্তর একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট বা ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যে সরকারি চাকরিজীবীকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁকেই সেখানে বসবাস করার কড়া নির্দেশ দেয় পরিদপ্তর। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এই নোটিশ পাওয়ার পর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়াটার্স থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেককে তড়িঘড়ি করে সরকারি আবাসন ছেড়ে দিতে দেখা যায়। এক দিনের নোটিশে বাসা ছাড়ার নির্দেশনায় অনেকে বিপাকে পড়েন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে অন্তত এক মাস সময় দেওয়ার দাবি জানান। নোটিশের পর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা মৌখিক চুক্তিতে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়ি ছাড়তে হলে অন্তত দুই মাস আগে জানাতে হবে—এমন শর্ত ছিল। কিন্তু সেই চুক্তি না মেনে হঠাৎ এক দিনের মধ্যে বাসা ছেড়ে দিতে বলায় তাঁরা কোথায় উঠবেন, তা নিয়ে ক্ষোভ জানান।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য রয়েছে ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো।

গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি, গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি এবং গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি বাসা রয়েছে। এ ছাড়া শুধু গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৭৭৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ১২ ও ১৩তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭তম গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট।

সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি বাসা নিয়ে কেন ভাড়া দেন

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।