|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বাবাকে কোপানোর পর মেয়েকেও হত্যা, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
৩৩৪ পঠিত
বাবাকে কোপানোর পর মেয়েকেও হত্যা, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবা গোলাপ হোসেনকে কুপিয়ে ও বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। একই হামলায় তার পাঁচ বছরের মেয়ে তওবাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ স্বজনদের। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে...

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবা গোলাপ হোসেনকে কুপিয়ে ও বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। একই হামলায় তার পাঁচ বছরের মেয়ে তওবাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ স্বজনদের। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক করা হয়েছে আরও কয়েকজনকে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকসের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ইটভাটার পাশের কাশফুলে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তওবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া গোলাপও ওই দিন দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পাঁচ বছরের মেয়ে তওবাকে নিয়ে রামকৃষ্ণদী এলাকায় ইটভাটায় কর্মরত নিজের বাবা জয়নাল মিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান গোলাপ। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বাবা-মেয়ে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গোলাপকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তাকে বিষপান করায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

আহত অবস্থায় রাতের অন্ধকারে কোনোভাবে নিজের বাবা জয়নাল মিয়ার কাছে পৌঁছান গোলাপ। তবে তার সঙ্গে ছিল না মেয়ে তওবা। স্বজনেরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে মোল্লা ব্রিকসের পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গোলাপকে প্রথমে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুর স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

গোলাপের বোন লিপি আক্তারের অভিযোগ, সোহরাব হোসেনের লোকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। মামলাগুলো গোলাপ দেখাশোনা করতেন। জমিসংক্রান্ত সেই বিরোধের জেরেই সোহরাব ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে গোলাপ ও তার মেয়েকে হত্যা করেছেন বলে দাবি লিপির। সোহরাবের বাড়ি উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসড়পাড়া এলাকায়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাবা-মেয়ের মৃত্যুতে স্বজনদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। গোলাপের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তওবার মরদেহ রয়েছে মুন্সীগঞ্জে।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স