|
| |
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সরকারি পদক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হবে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:০৬ এএম
৩৩০ পঠিত
সরকারি পদক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হবে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হলে এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক অপরাধ হিসেবে না দেখে একটি পদ্ধতিগত ও প্রযুক্তিগত সংকট হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে।

ডিজিটাল অবকাঠামোর বিকাশ ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আমাদের জীবনযাত্রাকে গতিশীল করলেও, ভার্চ্যুয়াল জগৎকে নারীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ করে তুলেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটালি রাইটের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘অ্যাবিউজ বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন’ (পর্দা ছাপিয়ে সহিংসতা) শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের প্রায় ৬৪ শতাংশ প্রযুক্তিসহায়ক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এ পরিসংখ্যান আমাদের সমাজ ও ডিজিটাল ব্যবস্থার এক গভীর সংকটের প্রতিফলন।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, তরুণী, শিক্ষার্থী ও উচ্চশিক্ষিত নারীরাই এই ডিজিটাল সহিংসতার প্রধান শিকার। বিশ্ববিদ্যালয় পাস নারীদের ৭৭ শতাংশ এবং ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ৪৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে সাইবার আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন। আর এই অপরাধ ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার।

আরও করুণ বাস্তবতা হলো ভুক্তভোগী নারীদের প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দায়িত্বহীনতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে অভিযোগ জানিয়েও ৫৬ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক এসব টেক জায়ান্টের দেশে কোনো স্থানীয় প্রতিনিধি বা আইনি জবাবদিহি না থাকায় তারা এ দেশের নারীদের নিরাপত্তাকে ক্রমাগত অবহেলা করে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নারীদের ওপর বিচার পাওয়ার আশাকে আরও ফিকে করে দিচ্ছে। সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে মাত্র ৫ শতাংশ নারী পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারছেন। তবে আইনি সাহায্য চাওয়া নারীদের ৮২ শতাংশই জানিয়েছেন, তাঁদের মামলায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর পাশাপাশি আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও অপরাধীদের পরোক্ষ সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৭২ শতাংশ নারীর অভিমত—অনলাইনে নিপীড়নের শিকার হলে অপরাধীকে কাঠগড়ায় না তুলে উল্টো ভুক্তভোগী নারীকেই দোষারোপ।

অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হলে এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক অপরাধ হিসেবে না দেখে একটি পদ্ধতিগত ও প্রযুক্তিগত সংকট হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে। শুধু নারীদের সচেতন হতে বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। টেক জায়ান্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাংলাদেশে স্থানীয় অফিস স্থাপন ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি থানায় সাইবার ক্রাইম তদন্তের উপযুক্ত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা জরুরি। নারীদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে ডিজিটাল বিপ্লবের সব অর্জনই ফিকে হয়ে যাবে।

সূত্র: প্রথম আলো