|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
১৮৫ পঠিত
এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

দিল্লিতে আজ রোববার বিরোধীদের বিশাল জনসভার দুই দিন আগে গুজরাটের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশ ও দেশবাসীর সেবায় তিনি নিবেদিত থাকতে চান। গুজরাটের বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অবসরগ্রহণের যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মোদি ঘোষণা করেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কাজ করে যাবেন।

গত শুক্রবার গুজরাটে বানাসকাণ্ঠায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক আবেগপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার দেশের মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকব। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি সেবার নীতিকেই ব্রত হিসেবে মেনে চলব—আমার মানুষের সেবা, প্রতিটি মানুষের সেবা।’

মোদির এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দুই শিবিরেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে কি নরেন্দ্র মোদি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাই বলছেন?

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি তাঁর অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রধান জনসভাও এই বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত হয়েছিল। তিনি বলেন, গুজরাটবাসীই তাঁকে সবকিছু শিখিয়েছেন। তিনি এমন এক সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে কেউ পঞ্চায়েতপ্রধান হওয়ার স্বপ্নও কোনো দিন দেখেননি। সেই সাধারণ মানুষ থেকে আজ তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি দেশের জনগণের ভালোবাসাকেই দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোর কথা স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, শুরুতে তাঁর সরকারি নথি বা প্রশাসনিক নীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। গুজরাটের মানুষই পরম ভালোবাসায় তাঁকে সবকিছু শিখিয়েছেন। সেই আবেগ থেকেই তিনি উপস্থিত সবাইকে অনুরোধ জানান, যেন তাঁরা তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ না বলে পুরোনো ও আদরের ‘নরেন্দ্র ভাই’ বলেই সম্বোধন করেন।

বানাসকাণ্ঠা সফরের সময় মোদি ১৪ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বেশ কিছু প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। কৃষি ও দুগ্ধশিল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বানাসকাণ্ঠার সাম্প্রতিক অগ্রগতির তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জনসভায় মোদি কৃষকদের উন্নত ভারত গড়ার অন্যতম শক্ত খুঁটি বলে উল্লেখ করে জানান, বর্তমান সরকার সর্বদা কৃষকদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। পশুপালন খাতে গ্রামীণ অর্থনীতির একটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত এক দশকে এই সেক্টরে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিন দেশের পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে মোদি জানান, বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়ে করা সব ওয়াদা পূরণ করেছে। এনডিএ সরকারের দূরদর্শী নীতির ফলে কৃষকরা প্রায় ৫০ লাখ কোটি রুপি পেয়েছেন এবং সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পেরেছেন। দুই দিনের গুজরাট সফরে এসে তিনি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কেভাদিয়ায় আয়োজিত একতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

সূত্র: প্রথম আলো