|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫২ এএম
২২৫ পঠিত
প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ইয়োতোভা ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের পক্ষে এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী।

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভাই জয়ী হতে চলেছেন। বুথফেরত জরিপে এমন আভাসই পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।

একাধিক বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ইয়োতোভা ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের পক্ষে এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী।

চূড়ান্ত সরকারি ফলাফলও যদি একই থাকে, তবে ইয়োতোভা হবেন বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট।

ইয়োতোভার প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভ প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পশ্চিমাপন্থী বিরোধীদের সমর্থন পাওয়া গিউরভ বলেছেন, ফলাফল যা এসেছে, তা মেনে নিতে হবে।

গিউরভ আরও বলেন, ‘বুলগেরিয়ার নাগরিকেরা এভাবেই তাঁদের রায় (ভোট) দিয়েছেন।’

বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোট পড়েছে ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনের তুলনায় এ হার সামান্য বেশি। প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যা রেকর্ড সর্বনিম্ন।

ভোট গণনা শেষে আজ সোমবার আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক।

৬১ বছর বয়সী ইয়োতোভা এ বছর জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র রুমেন রাদেভ পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হন।

বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোট পড়েছে ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনের তুলনায় এ হার সামান্য বেশি। প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যা রেকর্ড সর্বনিম্ন।

রুমেন রাদেভ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানী সোফিয়ার ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষক ক্রাসিমিরা কোস্তোভা ভোট দেওয়ার পর এএফপিকে বলেন, ‘দুই প্রার্থীর কাউকেই আমার পছন্দ নয়।’

৬৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী পেতার দোইচিনভ বলেন, গত সপ্তাহে প্রথম দফার ভোটে তিনি অংশ নেননি। কারণ, তাঁর ধারণা ছিল, দ্বিতীয় দফার ভোট হবে।

দোইচিনভ আরও বলেন, তিনি ‘কম খারাপ’ প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। কারণ, কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থানই তাঁর ‘গণতন্ত্রের ভাবনার’ সঙ্গে মেলে না।

গত মাসে কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক কয়েকটি ড্রোন হামলার পর এখনো ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব থেকেই এসব হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী রাদেভ বলেছেন, এসব হামলা মস্কোর স্বার্থ রক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছেন। তবে তাঁর সরকার বলেছে, হামলার সঙ্গে মস্কোর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই।

দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ব্যাংকার ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী গিউরভ টেলিভিশন বিতর্কে রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী না করায় ইয়োতোভার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাশিয়াকে অবশ্যই তার আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।’

ইয়োতোভা বলেন, ‘শুধু আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।’

ভোট দেওয়ার পর ইয়োতোভা বলেন, তিনি চান, ‘শক্তিশালী ইউরোপে বুলগেরিয়া শক্তিশালী হোক’ এবং ‘নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সার্বভৌম থাকুক’।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে ইয়োতোভা ৩৫ শতাংশ ভোট পান। অন্যদিকে গিউরভ পান ৩২ শতাংশ। জনমত জরিপে ইয়োতোভার ২০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোটের ফলাফলে দুই প্রার্থীর ব্যবধান ছিল অনেক কম।

সূত্র: প্রথম আলো