ইউক্রেনের নিরাপত্তায় পোল্যান্ডে সামরিক মহড়া চালাবে ইউরোপের ১০ দেশ
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপের ১০টি দেশ। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের ৯ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত পোল্যান্ডে যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে প্রায় ২ হাজার ৮০০ সেনা। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ইউরো নিউজের।
‘কোয়ালিৎসজা’ (পোলিশ...
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপের ১০টি দেশ। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের ৯ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত পোল্যান্ডে যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে প্রায় ২ হাজার ৮০০ সেনা। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ইউরো নিউজের।
‘কোয়ালিৎসজা’ (পোলিশ ভাষায় যার অর্থ ‘জোট’) নামের এ মহড়ার নেতৃত্ব দেবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। ২০২৫ সালে গঠিত ইউক্রেনের জন্য বহুজাতিক বাহিনী (এমএনএফ-ইউ) এর এটিই প্রথম বড় ধরনের মহড়া। রাশিয়ার ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তবেই বাহিনীটি ইউক্রেনে মোতায়েন করা হবে।
ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থল, নৌ ও আকাশপথে বিভিন্ন দেশের সেনাদের কত দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে মোতায়েন করা যায়, তা যাচাই করা হবে এ মহড়ায়।
২০২৫ সালে গঠিত বাহিনীটির প্যারিসে ইতোমধ্যে একটি কার্যকর সদর দপ্তর রয়েছে। এটি ন্যাটোর কোনো অভিযান নয় এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাও সীমিত। বাহিনীটির লক্ষ্য ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করা, দেশটির আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষ্ণসাগরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালু করতে সহায়তা দেওয়া।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ‘এটি কোনো কাল্পনিক পরিকল্পনা নয়, বরং একটি বাস্তব বাহিনী। যুদ্ধ বন্ধ হলে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে তারা।’
পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি নোভা ডেম্বা শহরের আশপাশে স্থল ও আকাশপথের মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে বেলজিয়াম, এস্তোনিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের সেনারা অংশ নেবেন।
মহড়ায় সবচেয়ে বড় দল হিসেবে ফ্রান্স ১ হাজার ১০০ সেনা পাঠাবে। আর যুক্তরাজ্য পাঠাবে ৩০০ সেনা।
মহড়ার সহনেতৃত্ব দেবেন ফরাসি জেনারেল আরমেল দিরু ও ব্রিটিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল টম বেটম্যান। দিরু বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ মহড়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, কৃষ্ণসাগরে ভবিষ্যতে মাইন অপসারণ অভিযানের প্রস্তুতি যাচাইয়ে ইস্তাম্বুল থেকে একটি সামুদ্রিক মহড়ার নেতৃত্ব দেবে তুরস্ক। তবে পোল্যান্ডের স্থল মহড়ায় তুরস্কের সেনারা অংশ নেবেন না।
ব্রিটিশ জেনারেল বেটম্যান স্পষ্ট করেছেন, এ বাহিনী কোনো শান্তিরক্ষী বা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ মিশন নয়। একই সঙ্গে এটি আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার জন্যও গঠিত হয়নি।
তার মতে, বাহিনীটির উদ্দেশ্য ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে পুনর্গঠনে সহায়তা ও তাদের সক্ষমতা জোরদার করা, যাতে ভবিষ্যতে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনে তা মোকাবিলা করা যায়।
মহড়ায় ভারী অস্ত্রের পরিবর্তে ড্রোনের মতো হালকা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। আকাশ থেকে আসা ড্রোন মোকাবিলা ও আত্মরক্ষার অনুশীলনও থাকবে। কোনো ট্যাংক মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই।
বেটম্যান জানান, বিভিন্ন দেশের সেনাদের মধ্যে সমন্বয়, সদস্য ও সরঞ্জাম পরিবহন, রসদ সরবরাহ এবং বহুজাতিক বাহিনীর বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে কি না; এসব বিষয় যাচাই করা হবে।
ফরাসি জেনারেল দিরু বলেন, বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্ভাব্য লজিস্টিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য কাটিয়ে কীভাবে অভিযান পরিচালনা করা যায়, তা প্রস্তুত করাই মহড়ার উদ্দেশ্য। এটি শক্তি প্রদর্শনের কোনো আয়োজন নয়।
তবে যুদ্ধের অবসান নিয়ে মস্কোর আগ্রহ এখনো স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি ও মহড়ার পরিসর রাশিয়ার বিরক্তির কারণ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : ইউরো নিউজ
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স