|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ১৩ অভিযোগ, ছাগল নিয়ে গুজবের সত্যতা কতটা?

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম
৩১০ পঠিত
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ১৩ অভিযোগ, ছাগল নিয়ে গুজবের সত্যতা কতটা?
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা সংরক্ষণের অভিযোগ; দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রাণী পালনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রাইয়ান আবদুল বাতেনের গ্রেপ্তার ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়িয়েছে। বিশেষ করে একটি ছাগলের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে যে প্রচার চলছে, গ্রেপ্তারসংক্রান্ত নথিতে তার সুনির্দিষ্ট সমর্থন পাওয়া যায়নি। বরং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ অথবা সংরক্ষণসংক্রান্ত। গত ২৮ অক্টোবর ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টিতে গ্রেপ্তার হন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। প্রকাশিত বুকিং রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ১৩টি আলাদা অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগ তৃতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধ বা ‘থার্ড ডিগ্রি ফেলনি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত। গ্রেপ্তারের পর তাকে স্থানীয় কারাগারে নেওয়া হয়। আসলে কী অভিযোগে গ্রেপ্তার? হিলসবরো কাউন্টির গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত রেকর্ডে রাইয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ দেওয়া হয়েছে: ফিল্ম, ডিস্ট্রিবিউট, অর প্রসেস ইমেজ অর ভিডিও অফ সেক্সুয়াল একটিভিটি উইথ আন এনিম্যাল অর্থাৎ প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগের এই বিবরণে রাইয়ান নিজে সরাসরি কোনো প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ নেই। অভিযোগটি মূলত নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিও সংক্রান্ত। তিনি নিজে কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ করেছেন, অন্য কারও কাছে বিতরণ করেছেন, নাকি নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছেন; এসবের কোনটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তি, তা জানতে তদন্তের বিস্তারিত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া ১৩টি অভিযোগের প্রত্যেকটির পেছনে পৃথক কী ঘটনা বা প্রমাণ রয়েছে, সেটিও প্রকাশিত বুকিং তথ্য থেকে স্পষ্ট নয়। ছাগল নিয়ে গুজব ছড়াল কীভাবে? রাইয়ানের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছাগলকে ঘিরে নানা দাবি ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো পোস্টে তাকে সরাসরি প্রাণীর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত বলে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রকাশিত অভিযোগের বিবরণে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম নেই। ফলে ঘটনাটি ছাগলকে ঘিরেই ঘটেছে; এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ছবি বা ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সরাসরি প্রাণী নির্যাতনের ঘটনায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত করাও সঠিক নয়। তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ছাড়া এসব দাবি সত্য হিসেবে গ্রহণের সুযোগ নেই। রাইয়ানের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও অনলাইনে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সক্রিয়তার কথা কয়েকটি সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে। ফ্লোরিডার আইন কী বলছে? যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সুরক্ষায় বেশ কিছু কঠোর আইন রয়েছে। এর মধ্যে ৮২৮.১২৬ ধারা প্রাণীর সঙ্গে নিষিদ্ধ যৌন কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অপরাধের জন্য প্রযোজ্য। আইনটির আওতায় প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি নিষিদ্ধ যৌন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, অন্যকে সহায়তা বা প্ররোচিত করা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড আয়োজন বা প্রচারের মতো বিষয়গুলো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। একই আইনের ৬ নম্বর উপধারায় নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও জেনেশুনে ধারণ, বিতরণ অথবা সংরক্ষণকেও অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উপধারার অপরাধকে থার্ড ডিগ্রি ফেলনি হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে সরাসরি নিষিদ্ধ যৌন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণসংক্রান্ত কিছু অপরাধ সেকেন্ড ডিগ্রি ফেলনি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ ফ্লোরিডার আইন শুধু প্রাণীর ওপর সরাসরি নির্যাতন প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নির্দিষ্ট ধরনের নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিও তৈরি ও প্রচারকেও অপরাধের আওতায় এনেছে। প্রাণীকে যৌন শোষণ ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করাই এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য। রাইয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগও এর আওতায় পড়ে। কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে? ফ্লোরিডার দণ্ডবিধি অনুযায়ী, থার্ড ডিগ্রি ফেলনি অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সাধারণভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। রাইয়ানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ১৩টি অভিযোগ পৃথকভাবে প্রমাণিত হলে একাধিক সাজা দেওয়ার প্রশ্ন আসতে পারে। প্রকৃত সাজা নির্ভর করবে আদালতে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধি কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে এবং একাধিক সাজা একসঙ্গে নাকি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে কিনা, তার ওপর। এ ছাড়া ফ্লোরিডার সংশ্লিষ্ট আইনে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ওপর অন্তত পাঁচ বছরের জন্য প্রাণী রাখা, প্রাণী রয়েছে এমন বাসায় বসবাস এবং প্রাণীসম্পর্কিত নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে। তবে এসব শাস্তি কেবল আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরই প্রযোজ্য হতে পারে। কে এই রাইয়ান আবদুল বাতেন? রাইয়ান আবদুল বাতেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালে তিনি বুয়েট থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার থেকে ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর এবং ২০২২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বেলিনি কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটেশনাল সোশ্যাল সায়েন্স তার গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটেশনাল সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড এআই ল্যাবের পরিচালক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।