|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কিউইদের উড়িয়ে ওয়ানডে মিশন শুরু করল ভারত

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
২৯০ পঠিত
কিউইদের উড়িয়ে ওয়ানডে মিশন শুরু করল ভারত
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে ভারত। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডিএলএস পদ্ধতিতে ভারতের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ৩২ ওভারে ১৪৩ রান। সেই লক্ষ্য ৫৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। টস জিতে প্রথমে ফিল্ড...

বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে ভারত। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডিএলএস পদ্ধতিতে ভারতের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ৩২ ওভারে ১৪৩ রান। সেই লক্ষ্য ৫৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ৪.৩ ওভারে ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ১১ বলে ৯ রান করে আর্শদীপ সিংয়ের বলে শ্রেয়াস আইয়ারের হাতে ক্যাচ দেন উইল ইয়ং। এরপর ৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় তারা। ১১ বলে ৯ রান করা হেনরি নিকোলসকেও ফেরান আর্শদীপ।

তৃতীয় উইকেটে টিম সেইফার্ট ও ড্যারিল মিচেল মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের জুটিতে আসে ৩৩ রান। ৪৩ বলে ৩৮ রান করে গুরনুর ব্রারের বলে বিকল্প ফিল্ডার রুতুরাজ গাইকোয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সেইফার্ট। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা।

এরপর মিচেলকে সঙ্গে নিয়ে দলের রান এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তবে ১১ বলে মাত্র ৩ রান করে গুরনুরের বলেই ক্যাচ ও বোল্ডের সমন্বয়ে নিজের উইকেট হারান তিনি। ৮৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস।

তবে ৯৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ৪১ বলে ২৮ রান করা মিচেল রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ১৬ বলে ৪ রান করা মিচেল স্যান্টনারকে বোল্ড করেন আনশুল কাম্বোজ। ১১৫ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পর দলের সংগ্রহ আরও বড় করার দায়িত্ব পড়ে ফিলিপসের ওপর। তবে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫১ বলে ৩০ রান করা এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন আর্শদীপ।

নিউজিল্যান্ডের শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ব্লেয়ার টিকনার। মাত্র ২৩ বলে ৩৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও চারটি ছক্কা। জ্যাকব ডাফি ২১ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে নাথান স্মিথ ১ ও কাইল জেমিসন ১ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৪০.২ ওভারে ১৮৫ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।

ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার আর্শদীপ। ১০ ওভারে ৭০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। গুরনুর ব্রার ৯.২ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন। কাম্বোজ ১০ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচায় নেন দুটি উইকেট। তার বোলিংয়ে ছিল দুটি মেডেন ওভার। অক্ষর প্যাটেল পাঁচ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। আকিব নবী উইকেট না পেলেও ছয় ওভারে ৩৩ রান দেন।

১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ইনিংসের শেষ বলে নয়, বরং প্রথম ওভারের শেষ বলেই উইকেট হারায় সফরকারীরা। ছয় বল খেলে কোনো রান না করেই কাইল জেমিসনের বলে স্যান্টনারের হাতে ক্যাচ দেন রোহিত শর্মা। ফলে ১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় ভারত।

এরপর শুবমান গিল ও বিরাট কোহলি মিলে ইনিংসের হাল ধরেন। শুরুতে কিছুটা সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন কোহলি। দুই ব্যাটারের জুটিতে আসে ১১৩ রান। গিল নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাটিং করে ৫৬ বলে ৩৭ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার।

গিল ফেরার পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন কোহলি। ৫১ বলে ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ১৩টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। ১৪৫.০৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করা কোহলি মাত্র ৩৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। জ্যাকব ডাফির বলে টিম সেইফার্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস। এর আগে কোহলির বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের একটি রিভিউও সফল হয়নি।

কোহলি ফেরার পর একই ওভারে দ্রুত দুটি উইকেট হারায় ভারত। ১৩ বলে ১৫ রান করা শ্রেয়াস আইয়ারকে ডাফি ফিরিয়ে দেন। এরপর দুই বলের ব্যবধানে কোনো রান না করেই আউট হন অক্ষর প্যাটেল। ফলে ১২৪ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। দুই উইকেটই নেন ডাফি।

তবে বাকি পথ পাড়ি দিতে সমস্যা হয়নি সফরকারীদের। কেএল রাহুল ও নামান ধীর অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। রাহুল পাঁচ বলে ৩ এবং নামান তিন বলে ৫ রান করেন। ২২.৪ ওভারে ১৪৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স