|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

১০ মাসেও কেন তদন্তের অগ্রগতি হবে না

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৫ এএম
৩৫৭ পঠিত
১০ মাসেও কেন তদন্তের অগ্রগতি হবে না
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

প্রথম আলো কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসের কালো অধ্যায়ই নয়, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করে দেওয়ার চেষ্টারও অংশ। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে হামলার পর ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। সেই মামলার তদন্ত না এগোনোর খবর যারপরনাই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। 

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, প্রথম আলো ভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সাড়ে ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। হামলার পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারীদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি, অভিযোগপত্রও জমা পড়েনি। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ৩৯ জন, যাঁদের সবাই এখন জামিনে মুক্ত। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, মামলার তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা বলছেন, নতুন আসামি শনাক্ত করার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তাঁর সেই নির্দেশের আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি কোথায়? প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন তদন্ত শেষ করা গেল না?

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে একদল উগ্রপন্থী প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরদিন উদীচী কার্যালয়েও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব হামলা মোটেই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। দেশের সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও মুক্তচিন্তার পরিবেশের ওপর সংঘবদ্ধ আক্রমণ ছিল। এ হামলা ঠেকাতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা বহুমাত্রিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।

প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সবাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অথচ হামলার পেছনে কারা পরিকল্পনা করেছিল, কীভাবে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং এতে অর্থ বা রাজনৈতিক সহায়তা ছিল কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ভয়াবহ এ হামলার ভিডিও ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা, স্থিরচিত্রসহ অনেক তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ রয়েছে। এত কিছুর পরও হামলায় অংশ নেওয়া সবাইকে শনাক্ত করতে না পারা তদন্তের সক্ষমতা ও আন্তরিকতা—দুই বিষয়েই প্রশ্ন তৈরি করে।

প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা শুধু একটি সংবাদপত্রের ভবনে হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকলে তার প্রতিবাদের পথ খোলা আছে। কিন্তু সেই দ্বিমতের জবাব ভবন পুড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট কিংবা সাংবাদিকদের জীবন বিপন্ন করার মাধ্যমে হতে পারে না। এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে ভবিষ্যতে স্বাধীন সাংবাদিকতা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।

আমরা মনে করি, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক যথার্থই বলেছেন, প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা আমাদের দেশে বাক্‌স্বাধীনতার ওপর জঘন্যতম আক্রমণের একটি। পুলিশকে অবশ্যই যথাযথভাবে তদন্ত করে এ হামলার পরিকল্পনাকারী ও জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হলে যারা বাক্‌স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র খর্ব করতে চায়, তাদেরই প্রশ্রয় দেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো