|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

খুলনার ইন্দ্রমোহন সুইটসের ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, বিশেষত্ব কী

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৩ এএম
৩১৯ পঠিত
খুলনার ইন্দ্রমোহন সুইটসের ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, বিশেষত্ব কী
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
খুলনার বড় বাজারে ১৮৯০ সাল থেকে একই রেসিপিতে তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাঁচ ধরনের মিষ্টি।

খুলনার বড় বাজারের বিখ্যাত মিষ্টির দোকান ‘ইন্দ্রমোহন সুইটস’। ১৮৯০ সালে তৎকালীন সাহেবের বাজারের হেলাতলা রোডে গোলপাতার ঘরে এই দোকানের যাত্রা শুরু করেন মানিকগঞ্জের ধূলসরা গ্রামের ইন্দ্রমোহন দে। সময়ের পরিক্রমায় সেই ঘর দ্বিতল দালানে রূপ নিলেও দীর্ঘ ১৮ বছর আইনি লড়াই শেষে ২০১৯ সালে দোকানটি ১৭ নম্বর হেলাতলা রোডের মসজিদ গলিতে স্থানান্তরিত হয়।

প্রতিষ্ঠাতা ইন্দ্রমোহন দে টানা ৮২ বছর দোকানটি পরিচালনা করে ১৯৭২ সালে মারা যান। এরপর তাঁর ছেলে বেণীমাধব দে এবং পরে নাতি সঞ্জয় দে এর হাল ধরেন। ২০১৯ সালে মালিকপক্ষ প্রবাসে স্থায়ী হলে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে কারিগর হিসেবে কাজ করা কমলচন্দ্র সরকার প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনিই এটি পরিচালনা করছেন, তবে মালিকেরা বিদেশ থেকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।

কমলচন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে জানান, ১৩৬ বছর আগে যে পাঁচ পদের মিষ্টি দিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছিল, আজও কেবল সেগুলোই বানানো হয়। পানতুয়া, রসগোল্লা, চমচম, সন্দেশ ও দানাদার—এই পাঁচ মিষ্টির রেসিপি আর প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। স্থানীয় খামারের গরুর খাঁটি দুধের ছানা দিয়ে তৈরি এসব মিষ্টিতে কোনো আটা বা সুজি মেশানো হয় না। পানতুয়া ভাজা হয় খাঁটি ঘি দিয়ে, আর রসগোল্লা ও দানাদারের ভেতরে থাকে খাঁটি ক্ষীর। মুখে দিলেই মাখনের মতো গলে যায় এসব মিষ্টি। শুধু স্বাদ নয়, পরিবেশনেও রয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্য। আজও ক্রেতাদের কলাপাতায় মুড়ে মিষ্টি দেওয়া হয়। দোকানের ভেতরে বসে খেতে চাইলে চামচ দেওয়া হয় না, খেতে হয় হাত দিয়েই।

দেশের সীমানা পেরিয়ে অনন্য এই স্বাদ ও ঘ্রাণের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারসহ বহু বিদেশি পর্যটক এই মিষ্টির প্রশংসা করেছেন। রবার্ট মিলার মুগ্ধ হয়ে কমল সরকারকে নিউইয়র্কে দোকান খোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় কমল সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

এত সুনাম ও ঐতিহ্য থাকা ইন্দ্রমোহন সুইটসের কোনো শাখা নেই। কমলচন্দ্র সরকার বলেন, ‘বিশুদ্ধ উপকরণ আর পদ্ধতিই আমাদের সুখ্যাতি দিয়েছে। বেশি মিষ্টি বানানো বা ব্যবসা বাড়ানোর চেয়ে আমরা গুণগত মানের ওপরই বেশি জোর দিই। শুরুর দিকে যে পরিমাণ মিষ্টি তৈরি হতো, আজও ঠিক ততটুকুই হয়।’ গুণগত মানের এই আপসহীন নীতির কারণেই ক্রেতাদের চাহিদায় টিকে আছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী এই ইন্দ্রমোহন সুইটস।

সূত্র: প্রথম আলো