|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

অতিরিক্ত ফুলকপি খেলে শরীরে যে ৩টি সমস্যা হতে পারে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
৩৩৯ পঠিত
অতিরিক্ত ফুলকপি খেলে শরীরে যে ৩টি সমস্যা হতে পারে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় ফুলকপির অবস্থান বেশ ওপরে। ভাত বা আলুর বিকল্প থেকে শুরু করে পিৎজার ক্রাস্ট; নানাভাবে জায়গা করে নিচ্ছে এই সবজিটি। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘এভরিডে হেলথ’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে রয়েছে এবং এতে ক্যালরি...

আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় ফুলকপির অবস্থান বেশ ওপরে। ভাত বা আলুর বিকল্প থেকে শুরু করে পিৎজার ক্রাস্ট; নানাভাবে জায়গা করে নিচ্ছে এই সবজিটি। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘এভরিডে হেলথ’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে রয়েছে এবং এতে ক্যালরি ও শর্করার পরিমাণ বেশ কম। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে ফুলকপি খেলে শরীরে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ ফুলকপি খেলেই এর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়; এর বেশি খেলে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাস্থ্য সাময়িকী ও চিকিৎসকদের তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফুলকপি খাওয়ার ৩টি সম্ভাব্য শারীরিক সমস্যা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. আইওডিন শোষণে বাধা ও থাইরয়েডের সমস্যা

ফুলকপিতে ‘গয়ট্রোজেন’ নামক উপাদান থাকে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির আইওডিন ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য আইওডিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে আইওডিনের অভাব হলে ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ বা থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এর ফলে বিপাকক্রিয়া হ্রাস পাওয়া, অতিরিক্ত শীত লাগা, চুল ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মনোযোগে অসুবিধা এবং হঠাৎ ওজন বৃদ্ধির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এছাড়া পর্যাপ্ত আইওডিন পাওয়ার আশায় থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে ‘গলগণ্ড’ রোগ হতে পারে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের শরীরে আগে থেকেই আইওডিনের ঘাটতি রয়েছে, মূলত তাদের ক্ষেত্রেই এ ঝুঁকি বেশি।

২. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও পেটে গ্যাস তৈরি

অতিরিক্ত ফুলকপি খাওয়ার অন্যতম সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো পেটে অতিরিক্ত গ্যাস সৃষ্টি হওয়া ও অস্বস্তি। ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর আঁশ এবং সালফারযুক্ত যৌগ, যা সহজে হজম হয় না এবং পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে ফার্মেন্টেশন বা গাজন ঘটায়। পরিপাকতন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া এগুলো ভেঙে হাইড্রোজেন, মিথেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি করে, যা পেটে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস সৃষ্টি করে। পাশাপাশি ফুলকপিতে ‘র্যাফিনোজ’ নামক জটিল শর্করা থাকে। এই শর্করা ভাঙতে ‘আলফা গ্যালাক্টোসিডেস’ এনজাইমের প্রয়োজন হয়, যা মানবদেহ স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত ফুলকপি খেলে পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা ও হজমে মারাত্মক অস্বস্তি হতে পারে।

৩. রক্ত পাতলা করার ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস

যারা রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ যেমন ‘ওয়ারফারিন’ (Warfarin বা Coumadin) সেবন করছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত ফুলকপি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফুলকপিতে মাঝারি মাত্রায় ভিটামিন কে থাকে (প্রতি কাপ কাঁচা ফুলকপিতে প্রায় ১৬.৬ মাইক্রোগ্রাম এবং সিদ্ধ ফুলকপিতে ১৭.২ মাইক্রোগ্রাম)।

ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ওয়ারফারিন ওষুধটি রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমায়। ফলে হঠাৎ অতিরিক্ত ফুলকপি খেলে ওয়ারফারিন ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন কে-এর মাত্রা স্থিতিশীল রাখা আবশ্যক।

সূত্র: কালবেলা