|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

রেজুলেশন জালিয়াতিতে পদোন্নতি, ৮ বছর সহকারী অধ্যাপকের বেতন উত্তোলন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
২৯৬ পঠিত
রেজুলেশন জালিয়াতিতে পদোন্নতি, ৮ বছর সহকারী অধ্যাপকের বেতন উত্তোলন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
পটুয়াখালীর দশমিনা সরকারি আব্দুর রশিদ তালুকদার কলেজের কারিগরি শাখার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মো. আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে রেজুলেশন জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে প্রায় আট বছর ধরে ওই পদের বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে পদোন্নতিতে অনিয়ম...
পটুয়াখালীর দশমিনা সরকারি আব্দুর রশিদ তালুকদার কলেজের কারিগরি শাখার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মো. আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে রেজুলেশন জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে প্রায় আট বছর ধরে ওই পদের বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে পদোন্নতিতে অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসার পর অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রায় তিন বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে সরকারের প্রায় ২০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ জুন কলেজের বেসরকারি আমলের সর্বশেষ রেজুলেশনের স্বাক্ষর জাল করে ডুপ্লিকেট রেজুলেশন তৈরির মাধ্যমে ২০১৯ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নেন আনিচুর রহমান। এ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর মাউশির তদন্তে পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনে এ অনিয়মের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষককে তিন মাসের ‘স্টপ পেমেন্ট’ শাস্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি আনিচুর রহমানের বেতন প্রভাষক পদ অনুযায়ী নির্ধারণ এবং সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে মাউশির ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির তদন্তসংশ্লিষ্ট স্মারক এবং একই বছরের ২৮ ডিসেম্বরের নির্দেশনা থাকার পরও অর্থ ফেরত নেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের। বিষয়টি ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট কলেজে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের অডিট কার্যক্রমেও উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারির অডিট প্রতিবেদনে এবং ১২ জুলাই পুনরায় পাঠানো নির্দেশনায় আনিচুর রহমানের বেতন প্রভাষক পদে নির্ধারণ ও অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। কলেজের প্রভাষক মো. মাহমুদুল্লাহ বলেন, ২০১৯ সালেই রেজুলেশনসংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মাউশির তদন্তেও পদোন্নতিতে অনিয়মের বিষয়টি উঠে এসেছে। অডিট প্রতিবেদনে অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি করে প্রভাষক পদে বেতন নির্ধারণ এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ ফেরতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন চান তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. আনিচুর রহমান। তিনি বলেন, পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর আবেদন করেছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাকে পদোন্নতি দিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার কাগজপত্র যাচাই করে কোনো অনিয়ম পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক গাজী সবুজ আহমেদ বলেন, ‘সরকারি টাকা যে ব্যয় করবে, সরকার তার সঙ্গে বুঝবে। তবে এখন এটা নিয়ে সাংবাদিকদের বা পার্সোনাল কোনো ব্যক্তিদের কিংবা প্রতিষ্ঠানের কিছু যায় আসে না।’ মাউশির তদন্তের পর বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পাঠানো হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেখান থেকে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে মর্মে চিঠি পেয়েছেন। অডিট আপত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক জবাব দিয়ে তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তা না হলে মহাপরিচালকের কাছে বিষয়টি জানানো হবে। এ বিষয়ে মাউশির বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি নতুন যোগদান করেছেন। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারবেন। কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, পদোন্নতিতে অনিয়মের তদন্ত ও অর্থ ফেরতের একাধিক নির্দেশনা থাকার পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারি অর্থ উদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ঘটনায় সরকারের প্রায় ২০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। দ্রুত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি, অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স