|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে: এইচআরডব্লিউ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৫ এএম
৩১৪ পঠিত
বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে: এইচআরডব্লিউ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদন বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি এইচআরডব্লিউ এই আহ্বান জানায়। প্রতিবেদনটি এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে, সে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একই সঙ্গে সংস্থাটি সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বলেছ।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদন বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি এইচআরডব্লিউ এই আহ্বান জানায়। প্রতিবেদনটি এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভরত হাজারো পোশাকশ্রমিককে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

বিক্ষোভের সময় অগ্নিসংযোগ, কারখানায় ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। কারখানার মালিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত করা উচিত, পুলিশ যেন কেবল প্রয়োজন হলেই বলপ্রয়োগ করে। আর সেই বলপ্রয়োগ যেন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত না হয়। একই সঙ্গে সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৩ নভেম্বর তৌফিক হোসেন নামের এক পোশাকশ্রমিক মারা গেছেন। তাঁর এক সহকর্মী এইচআরডব্লিউকে বলেন, ‘দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা কারখানায় ফিরছিলাম। এ সময় তৌফিক বিক্ষোভরত শ্রমিক এবং বিক্ষোভ দমনের জন্য অন্য একটি পোশাক কারখানা থেকে ভাড়া করে আনা লোকজনের মাঝে পড়ে যান। পেছনে ফিরে দেখি, তৌফিক মাটিতে পড়ে আছেন। ভাড়া করে আনা লোকজন তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়েছিল।’

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি করছেন। ২০২৩ সালে তাঁদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ১ নভেম্বর সরকার একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড জানিয়েছে, নতুন মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর তা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

৩১ বছর বয়সী এক সেলাই মেশিন অপারেটর বলেন, ‘আমার বাসাভাড়া ৬ হাজার টাকা। রান্নার গ্যাসের দাম এখন ২ হাজার ৩০০ টাকা। আমি মাসে বেতন পাই ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ বছর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোর সামর্থ্য আমার নেই। বলুন তো, খাবারের জন্য আর কত টাকা থাকে?’

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরির যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় না নিয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক বিরোধীদের দায়ী করছে।

৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, নাশকতার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ৩৩ জন সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপির যুব সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

৩ নভেম্বর আশুলিয়ায় তিনজন শ্রমিকনেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হাজারো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী বলেন, ‘তারা আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে। সে অল্প সময়ের জন্য বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। কোনো ধরনের সহিংসতায় সে জড়িত ছিল না।’

গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গত এপ্রিলে গৃহীত শ্রম আইনের একটি সংশোধনীতে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পর্যালোচনার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়নের সংগঠকদের কালো তালিকাভুক্ত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, মজুরি নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে চলা সহিংসতা ও দায়মুক্তির চক্র বন্ধ করতে হবে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোরও ভূমিকা রয়েছে। সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডগুলোর সব সময় নিশ্চিত করা উচিত, চুক্তির শর্ত যেন কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনে উৎসাহ না জোগায় কিংবা তাঁদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি দেওয়া অসম্ভব করে না তোলে।

সূত্র: প্রথম আলো