|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির কী হবে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
৩২৬ পঠিত
রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির কী হবে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
রোনালদো অবসর নেওয়ার পরও অনেকের কাছে ৭ নম্বর জার্সির মালিক শুধু তিনিই। কারণ, ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ ম্যাচ যে এ জার্সি পরেই খেলেছেন কিংবদন্তি।

জর্জ বেস্ট, গারিঞ্চা, জেয়ারজিনহো, লুইস ফিগো। চাইলে আরও নাম বলা যায়। ডেভিড বেকহাম, ফ্রাঙ্ক রিবেরি, আন্দ্রে শেভচেঙ্কো, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার, রাউল গঞ্জালেস। বলুন তো, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই কিংবদন্তিদের মধ্যে মিলটা কোথায়?

৭ নম্বর জার্সিতে। দেশের হয়ে তাঁরা সবাই এই জার্সিতে মাঠ মাতিয়েছেন। সবাই হয়তো সর্বকালের সেরাদের কাতারে উঠে আসতে পারেননি, কেউ কেউ পেরেছেন। তবে ৭ নম্বর জার্সির যে খেলোয়াড় প্রায় সর্বজনস্বীকৃতভাবে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় থাকেন তাঁর নামটাই বলা হয়নি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!

পর্তুগাল জাতীয় দলে রোনালদো তাঁর সেই ৭ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখলেন গতকাল। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন ‘সিআরসেভেন’। এই জার্সি আর রোনালদো এতটাই সমার্থক যে ‘সিআরসেভেন’ নামটা বেশ আগে থেকেই বড় ব্র্যান্ড। পর্তুগাল দলে অভিষেকে ১৭ নম্বর জার্সি পরে খেলা রোনালদো ৭ নম্বর জার্সি পেয়েছিলেন ফিগো অবসর নেওয়ার পর। বাকিটা ইতিহাস।

শুধু জাতীয় দল নয়, এত বছর ধরে ক্লাব ফুটবলেও জার্সিটি রোনালদো এতটাই আপন করে নিয়েছিলেন যে অন্য কোনো দলে অন্য কারও গায়ে একই জার্সি দেখেও সবার আগে রোনালদোকে মনে পড়ে। অবসর নেওয়ার পর এখন মন পোড়ে। ভবিষ্যতেও আরও পুড়বে; একদম ফুটবল থেকেই অবসর নেওয়ার পর।

আপাতত সেই বিরহে পুড়ছে পর্তুগিজদের মন। অবসর বার্তায় রোনালদো তাঁদের বলেছেন, ‘জাতীয় দলে ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার দিন এসে গেছে। কখনো ভাবিনি, জার্সিটি শুধু আমারই।’

রোনালদো অবসর নেওয়ার পরও অনেকের কাছে ৭ নম্বর জার্সির মালিক শুধু তিনিই। কারণ, ২৩ বছরে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোলের ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ ম্যাচ যে এ জার্সি পরেই খেলেছেন কিংবদন্তি। সেই ২০০৮ থেকে জার্সিটি পরা শুরু করে থামলেন ১৮ বছর পর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্তুগিজ ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেরই দাবি, রোনালদো অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোর পর ৭ নম্বর জার্সিটাও অবসরে পাঠাক পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। গত অক্টোবরেও রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সিটি জাতীয় দল থেকে চিরতরে তুলে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পর্তুগালের সাবেক তারকা পাওলো ফুত্রে। কিন্তু চাইলেই কি সেটা সম্ভব?

ফিফার নিয়ম কী বলে: খেলোয়াড়ের অবসরে সম্মান জানিয়ে তাঁর জার্সিও তুলে রাখার ঘটনা বিভিন্ন খেলাতে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু ফুটবলে এই ব্যাপারটি একটু বিরলই। ক্লাব ফুটবলে দেখা যায়। ২০২৫ সালে মৃত্যুর পর দিওগো জোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর ২০ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রেখেছে লিভারপুল। ইয়োহান ক্রুইফ (১৪, আয়াক্স), পাওলো মালদিনি (৩, এসি মিলান), ফ্রাঙ্কো বারেসি (৬, এসি মিলান) এবং জুড বেলিংহামের (২২, বার্মিংহাম সিটি) মতো তারকারাও এ বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

কিন্তু আন্তর্জাতিক দলগুলোর পক্ষে কোনো খেলোয়াড়ের জার্সি নম্বর চিরতরে তুলে রাখা বা অবসরে পাঠানো সম্ভব নয়।

ফিফা ও ফিফার বিভিন্ন কনফেডারেশনের টুর্নামেন্টে (পর্তুগাল উয়েফার অন্তর্ভুক্ত) জাতীয় দলগুলোকে স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য ধারাবাহিক নম্বর বা জার্সি নম্বর ঠিক করতে হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্কোয়াডে খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল ২৬ জন, যার অর্থ স্কোয়াডে জার্সির নম্বরগুলো ছিল ১ থেকে ২৬ পর্যন্ত।

সর্বশেষ ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে যেমনটি হয়েছিল, ডেনমার্কে পর্তুগাল দলের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে রোনালদো চলে যাওয়ার পর ৭ নম্বর জার্সিটি পরেছিলেন রাফায়েল লেয়াও। এর নেপথ্যে রয়েছে নিয়মের বাধ্যবাধকতা। প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন মধ্যরাতের মধ্যে সব ফেডারেশনকে উয়েফার কাছে ওই ম্যাচের জন্য ২৩ জন নির্বাচিত খেলোয়াড়ের একটি তালিকা জার্সি নম্বরসহ জমা দিতে হয়। আর সেই জার্সি নম্বর হবে ক্রম অনুযায়ী। অর্থাৎ বাধ্য হয়েই কাউকে না কাউকে ৭ নম্বর জার্সিটি পরতে হতো। লেয়াও সেটাই করেছেন।

ফিফার আয়োজনে খেলা অফিশিয়াল ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। এ কারণেই নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের জার্সি নম্বর তুলে রাখা বা অবসরে পাঠানোর সুযোগ রাখে না।

পর্তুগালের হয়ে আর খেলবেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

অতীতে কী ঘটেছে

এর আগে অন্যান্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট কিছু জার্সি নম্বর অবসরে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে ফিফা বরাবরই এ বিষয়ে অনমনীয় অবস্থান দেখিয়ে এসেছে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে, ২০০১ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১০ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রাখার প্রাথমিক চেষ্টা করেছিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), যা ফিফা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তী সময়ে ২০০২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরেন আরিয়েল ওর্তেগা।

লিওনেল মেসি গত আগস্টে অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোর পর ফিফাকে ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে একই অনুরোধ করে এএফএ। কিন্তু ফিফা অনুমতি দেয়নি।

২০০৩ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া মার্ক-ভিভিয়েন ফোয়ের ১৭ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার চেষ্টা করেছিল ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু ফিফার নিয়মের কারণে সেটিও সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক এই ফুটবলারের ক্লাবগুলো—ম্যানচেস্টার সিটি (২৩ নম্বর) এবং লেঁস (১৭ নম্বর)—তাঁর জার্সি ঠিকই অবসরে পাঠায়। ক্লাব প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন।

ক্যারিয়ারজুড়ে ৭ নম্বর জার্সি পরে মাঠ মাতিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সির উত্তরাধিকার কে

বেশ কয়েকজন ফুটবলার এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি। তবে সময় রাফায়েল লেয়াওয়ের পক্ষে। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে ৭ নম্বর জার্সিটি পরেছেন এই লেফট উইঙ্গার। পেদ্রো নেতো আরেকটি বিকল্প। এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে চেলসিতে ৭ নম্বর জার্সি পরে খেলেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের মার্চে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পর্তুগালের প্রীতি ম্যাচে এই জার্সি পরেছিলেন উইঙ্গার গনসালো গেদেস।

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তাঁর অনুপস্থিতিতে নানি, রিকার্দো কুয়ারেজমা, ব্রুমা, রিকার্দো হোর্তা, আন্দ্রে সিলভাসহ আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এই জার্সি পরেছেন। তবে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। কারণ, এই জার্সিতে সবচেয়ে বিখ্যাত খেলোয়াড়টির অবসরের পর নিশ্চিত কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: প্রথম আলো