|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

অভিনয়শিল্পী সংঘের সিদ্ধান্তে তিশার ক্ষোভ প্রকাশ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
৪২৭ পঠিত
অভিনয়শিল্পী সংঘের সিদ্ধান্তে তিশার ক্ষোভ প্রকাশ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনায় অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত...

শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনায় অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তানজিন তিশা।

অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ ফেসবুকে তিশার সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি শুক্রবার প্রকাশ করলেও অভিনেত্রীকে পাঠানো চিঠিটির তারিখ উল্লেখ আছে ৪ অক্টোবর। এতে স্বাক্ষর করেছেন অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু। চিঠিতে জানানো হয়, গত ৭ জুলাই তানজিন তিশাকে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিল সংগঠনটি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই নোটিশের কোনো লিখিত জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি অভিনেত্রী।

সংগঠনের চিঠিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে সালিশ ও বিরোধ নিষ্পত্তি বৈঠকে আলোচনা করা হয়। সেখানে নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তিশার সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনেত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাশেদ মামুন অপু সংবাদ মাধ্যমে জানান, দুই অভিনেত্রীর মধ্যে সমঝোতা করানোর জন্য একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছিল। সালিশ বৈঠকে তাদের ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি ও ভিডিওবার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরপর দুটি চিঠি পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি। ফোনেও সাড়া মেলেনি। পরে সালিশ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এদিকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বিভিন্ন তথ্য ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তানজিন তিশা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিপরীত দাবি করে তিনি জানান যে তিনি অভিনয়শিল্পী সংঘের ডাকা বিচার বা সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, সালিশি বৈঠকে অপর পক্ষকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং অ্যাক্টরস সিকিউরিটিকে ধন্যবাদ জানানোর কথা ছিল। তবে সেই ভিডিওটি সময়মতো দেওয়া হয়নি বা দিতে পারেননি বলে তিনি জানান। বিদেশভ্রমণ ও ব্যস্ততার কারণে নির্দেশিত ভিডিও প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদমাধ্যমের একাংশ সত্যতা যাচাই না করেই একপক্ষীয় সংবাদ প্রকাশ করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, শাড়িকান্ডসহ গত এক বছর ধরে তাকে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সামাজিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিশা জানান যে তিনি অভিনয় ছাড়াও নিজের রেস্টুরেন্ট ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি, তাই তিনি সহজে হার মানবেন না বা লড়াই থামাবেন না।

জানা যায়, গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিংয়ে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। ওই দিন ফেসবুক লাইভে এসে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন সামিয়া। তার দাবি, নাটকের দৃশ্যে তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা থাকলেও তিশা তাকে কয়েকবার জোরে চড় মারেন। এতে তার চোখ ও গাল ফুলে যায়।

তবে সামিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিশা দাবি করেছিলেন, নাটকের চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে দৃশ্যটি করা হয়েছিল। পরিচালকের ভাষ্যও ছিল, দৃশ্যে দুজনেরই পরস্পরকে চড় মারার কথা ছিল। অভিনয়ের সময় কোনো চড় জোরে লেগে যাওয়ায় ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: কালবেলা