|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চারবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন রুজভেল্ট, এরপরই বদলে যায় সংবিধান

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
৩৮০ পঠিত
চারবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন রুজভেল্ট, এরপরই বদলে যায় সংবিধান
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
আজ ৭ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে

বিশ্বজুড়ে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা। ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর; সবখানেই যুদ্ধের উত্তাপ। লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। এমন এক অনিশ্চিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যুদ্ধের মাঝপথে তারা কি দেশের নেতৃত্ব বদলাবে, নাকি আস্থা রাখবে সেই প্রেসিডেন্টের ওপর, যিনি এরই মধ্যে টানা ১২ বছর হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব পালন করছেন? ১৯৪৪ সালের ৭ নভেম্বর মার্কিন ভোটাররা বেছে নিয়েছিলেন দ্বিতীয় পথটি। ইতিহাস গড়ে চতুর্থবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ফ্রাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি চারবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তার আগে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি। পরেও কেউ পারেননি। বরং তার এই নজিরবিহীন বিজয়ের পরই সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দুই মেয়াদে সীমিত করা হয়। আজ ৭ নভেম্বর। রুজভেল্টের সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয়ের ৮২ বছর। মার্কিন গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সংকট, বিশ্বযুদ্ধ এবং রাষ্ট্রক্ষমতার সীমা নির্ধারণের ইতিহাসে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মহামন্দার অন্ধকারে যে নেতার উত্থান ১৮৮২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিউইয়র্কের হাইড পার্কে জন্মগ্রহণ করেন ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট। রাজনীতিতে আসার পর তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটর, নৌবাহিনীর সহকারী সচিব এবং নিউইয়র্কের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২১ সালে এক গুরুতর অসুস্থতার কারণে তার পায়ের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার রাজনৈতিক জীবন থামিয়ে দিতে পারেনি। ১৯২৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় ভয়াবহ অর্থনৈতিক মহামন্দা, যা গ্রেট ডিপ্রেশন নামে পরিচিত। ব্যাংক বন্ধ হয়ে যেতে থাকে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কমে যায়, কর্মসংস্থান হারান লাখ লাখ মানুষ। অর্থনৈতিক সংকট ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। এই পরিস্থিতিতে ১৯৩২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হারবার্ট হুভারকে পরাজিত করেন ডেমোক্র্যাট নেতা রুজভেল্ট। ১৯৩৩ সালের ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ৩২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ক্ষমতায় এসে ঘোষণা করেন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ব্যাপক কর্মসূচি, যা নিউ ডিল নামে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত নিউ ডিল: রাষ্ট্রের ভূমিকার নতুন ব্যাখ্যা রুজভেল্টের নিউ ডিল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার। সরকারি উদ্যোগে সড়ক, সেতু, বাঁধ ও নানা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হয়। ১৯৩৫ সালে চালু হয় সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বয়স্ক মানুষ, বেকার এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষার কাঠামো গড়ে ওঠে। নিউ ডিলের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে এই কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও ছিল। সমর্থকেরা মনে করতেন, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সরকারের সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, রুজভেল্টের নীতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। নিউ ডিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনলেও মহামন্দা থেকে পূর্ণ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটে মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক বিস্তারের মধ্য দিয়ে। একের পর এক নির্বাচনে বিজয় ১৯৩২ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৩৬ সালে দ্বিতীয়বার বিজয়ী হন রুজভেল্ট। সে নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী আলফ্রেড ল্যান্ডনকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। এরপর আসে ১৯৪০ সালের নির্বাচন। মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে তখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি ছিল, একজন প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করবেন না। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর অনুসরণে পরবর্তী প্রেসিডেন্টরাও সাধারণত একই রীতি বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু ১৯৪০ সালে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। আন্তর্জাতিক সংকট এবং নিজের প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার যুক্তিতে রুজভেল্ট তৃতীয়বার নির্বাচনে অংশ নেন। রিপাবলিকান প্রার্থী ওয়েন্ডেল উইলকিকে পরাজিত করে আবারও প্রেসিডেন্ট হন তিনি। এই বিজয়ের মধ্য দিয়েই দুই মেয়াদের দীর্ঘ রাজনৈতিক রীতি ভেঙে যায়। তবে তখনও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদসংখ্যা নিয়ে কোনো বাধ্যতামূলক সীমা ছিল না। যুদ্ধের মাঝখানে আবার নির্বাচন ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপানি বাহিনী পার্ল হারবারে মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ করে। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেতৃত্বে দেশটি মিত্রশক্তির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের সঙ্গে মিলে তিনি নাৎসি জার্মানি ও অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটকে এগিয়ে নেন। ১৯৪৪ সালে যখন আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় আসে, তখনও যুদ্ধ শেষ হয়নি। সেই নির্বাচনে রুজভেল্টের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী টমাস ই. ডিউই, যিনি নিউইয়র্কের গভর্নর ছিলেন। ডিউই প্রশাসনিক পরিবর্তন ও দক্ষতার প্রশ্ন তুলে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে রুজভেল্ট যুদ্ধ শেষ করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা গঠনে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনেন। নির্বাচনের সময় রুজভেল্টের শারীরিক অবস্থা নিয়েও আলোচনা ছিল। দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি তার স্বাস্থ্য আরও অবনতিশীল ছিল, যদিও সাধারণ ভোটারদের কাছে অসুস্থতার পূর্ণ মাত্রা পরিষ্কার ছিল না। সবকিছু ছাপিয়ে ৭ নভেম্বর ভোটে বিজয়ী হন রুজভেল্ট। চতুর্থবারের বিজয়: কত ভোট পেয়েছিলেন রুজভেল্ট? ১৯৪৪ সালের নির্বাচনে রুজভেল্ট প্রায় ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ সাধারণ ভোট পান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী টমাস ডিউই পান প্রায় ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ইলেকটোরাল কলেজে রুজভেল্ট পান ৪৩২ ভোট, ডিউই পান ৯৯ ভোট। এই নির্বাচনে রুজভেল্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন হ্যারি এস. ট্রুম্যান। চতুর্থবারের বিজয় রুজভেল্টকে মার্কিন ইতিহাসে অনন্য অবস্থানে নিয়ে যায়। ১৯৩২, ১৯৩৬, ১৯৪০ ও ১৯৪৪; টানা চারটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি এমন এক রেকর্ড গড়েন, যা আজও অক্ষত। যে মেয়াদ পূর্ণ করা হলো না ১৯৪৫ সালের ২০ জানুয়ারি চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রুজভেল্ট। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায় চলছে। ইউরোপে নাৎসি জার্মানির পরাজয় প্রায় নিশ্চিত। বিশ্বনেতারা যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছেন। ফেব্রুয়ারিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ইয়াল্টায় চার্চিল ও স্ট্যালিনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন রুজভেল্ট। সেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু চতুর্থ মেয়াদের শুরুতেই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। ১৯৪৫ সালের ১২ এপ্রিল জর্জিয়ার ওয়ার্ম স্প্রিংসে মারা যান রুজভেল্ট। তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৮২ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান। রুজভেল্ট ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পারেননি। ছবি: সংগৃহীত চারবারের রেকর্ড বদলে দিল সংবিধান রুজভেল্টের টানা চারবার নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্বের মেয়াদ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করে। একটি প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পায়: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি কতদিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতায় থাকতে পারবেন? এক পক্ষের যুক্তি ছিল, জনগণ ভোট দিয়ে যাকে চান, তাকে বারবার নির্বাচিত করার অধিকার থাকা উচিত। অন্য পক্ষ মনে করত, একই ব্যক্তির হাতে দীর্ঘদিন নির্বাহী ক্ষমতা থাকলে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি তৈরি হয়। রুজভেল্টের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সীমিত করার উদ্যোগ জোরালো হয়। ১৯৪৭ সালের ২১ মার্চ মার্কিন কংগ্রেস সংবিধানের ২২তম সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করে। ১৯৫১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রয়োজনীয়সংখ্যক অঙ্গরাজ্যের অনুমোদনের মাধ্যমে সংশোধনীটি কার্যকর হওয়ার শর্ত পূরণ করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন; এমন সাংবিধানিক বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে অন্যের মেয়াদের অংশবিশেষ দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে সংশোধনীতে বিশেষ বিধান রয়েছে। এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে রুজভেল্টের চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড আর ভাঙার সুযোগ নেই, যতক্ষণ বর্তমান বিধান বহাল থাকবে। অর্জনের পাশাপাশি বিতর্কও রুজভেল্টের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শুধু নির্বাচনী বিজয় বা বিশ্বযুদ্ধে নেতৃত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মহামন্দার সময় নিউ ডিলের মাধ্যমে অর্থনীতি ও সমাজে রাষ্ট্রের ভূমিকা বিস্তৃত করেছিলেন তিনি। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির জোট গঠন ও পরিচালনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে তার প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্ত আজও সমালোচিত। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে তার স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে জাপানি বংশোদ্ভূত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে, যাদের বড় অংশই ছিলেন মার্কিন নাগরিক, জোরপূর্বক আটকশিবিরে পাঠানো হয়। নাগরিক অধিকার ও জাতিগত বৈষম্যের ইতিহাসে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গভীর বিতর্কিত অধ্যায়। তার প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা এবং ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশ্ন নিয়েও ইতিহাসবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাই রুজভেল্টের দীর্ঘ শাসনকালকে বুঝতে হলে তার সংস্কার ও নেতৃত্বের পাশাপাশি এসব সিদ্ধান্তের সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিণতিও বিবেচনায় নিতে হয়। ৮২ বছর পরও যে রেকর্ড অক্ষত ১৯৪৪ সালের ৭ নভেম্বরের সেই নির্বাচনের পর পেরিয়ে গেছে ৮২ বছর। বদলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিশ্বে তার অবস্থান। কিন্তু ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের নির্বাচনী রেকর্ড এখনও মার্কিন ইতিহাসে স্বতন্ত্র। তার প্রেসিডেন্সি একদিকে মহামন্দা মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সংস্কার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের ইতিহাস। অন্যদিকে এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব ও ক্ষমতার সাংবিধানিক সীমা নির্ধারণের ইতিহাসও। রুজভেল্ট চারবার নির্বাচিত হয়েছিলেন এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বের বড় অংশ অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মুখে। কিন্তু তার মৃত্যুর পর মার্কিন রাষ্ট্রব্যবস্থা সিদ্ধান্ত নেয়, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা থাকা প্রয়োজন। ফলে রুজভেল্টের উত্তরাধিকার শুধু চারটি নির্বাচনে বিজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার নজিরবিহীন দীর্ঘ প্রেসিডেন্সি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্রক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন সাংবিধানিক বিধান প্রতিষ্ঠার পথও তৈরি করেছিল। ইতিহাসের এই দিনে তাই ফিরে আসে দুটি ঘটনা: একজন প্রেসিডেন্টের অভূতপূর্ব চতুর্থ বিজয়, আর সেই বিজয়ের পর জন্ম নেওয়া এমন এক সাংবিধানিক পরিবর্তন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিয়ম স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছে।