|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

আগাম শীতের প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে চরাঞ্চলের মানুষ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
৪৪৬ পঠিত
আগাম শীতের প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে চরাঞ্চলের মানুষ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় আগাম শীতের প্রভাবে বাড়ছে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাব এবং হাতের কাছে চিকিৎসাসেবা না থাকায় শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় ব্রহ্মপুত্রের...

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় আগাম শীতের প্রভাবে বাড়ছে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাব এবং হাতের কাছে চিকিৎসাসেবা না থাকায় শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের।  

চিলমারী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিরও বেশি অংশ চরাঞ্চল। অষ্টমীর চর, নয়ারহাট, চিলমারী ইউনিয়ন ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস। ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতে পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। ফলে শীতের সময় শিশু বা বয়স্ক কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ তুলনামূলক আগে অনুভূত হয়। বিশেষ করে ভোর ও রাতে ঠান্ডা বাতাস এবং কুয়াশায় বাড়ে দুর্ভোগ। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে শিশুদের ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নদী পেরিয়ে উপজেলা সদরে আসা ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনরা।

চিকিৎসক ডা. আবু রায়হান বলেন, ‘শীতের শুরু থেকেই শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে। শিশুদের গায়ে হালকা গরম সুতি কাপড়ের ওপর চাদর বা সোয়েটার পরিয়ে রাখতে হবে। মাথা, কান ও বুক যেন ঢাকা থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বয়স্কদের ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখতে হবে। বিশেষ করে সকালে ও রাতে কুয়াশার মধ্যে বাইরে বের হওয়া যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শরীর গরম রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে পর্যাপ্ত কুসুম গরম পানি, স্যুপ, পুষ্টিকর খাবার, মৌসুমি শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। সর্দি, কাশি, জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুদের দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের পাঁজর ভেতরে ঢুকে যাওয়ার মতো নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে। পাশাপাশি ঘরের ভেতরে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ ও মেঝের ঠান্ডা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

শীতের কষ্টের কথা জানিয়ে চরাঞ্চলের দিনমজুর গোলজার হোসেন বলেন, ‘শীত আইলে আমাদের মতো দিনমজুর মানুষের খুব কষ্ট হয়। ঠান্ডার কারণে সকালে কাজে বাইরে যাওয়া যায় না, আবার কাজ না করলে সংসার চলে না। অনেক দিন কাজ পাই, আবার অনেক দিন পাই না। সারাদিন ঠান্ডার মধ্যে কাজ করি, তাও ঠিকমতো গরম কাপড় নাই। পেটের দায়ে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজে যেতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, শীতের সময় কেউ একটু গরম কাপড় দিয়া সাহায্য করলে খুব উপকার হতো।’

চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘শীত আসার আগেই আমরা আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছি। পুরান লেপ-কম্বল বের করে রোদে দিয়েছি। বাড়ির ছোট বাচ্চা আর বয়স্কদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করছি। কিন্তু আমাদের মতো চর এলাকার গরিব মানুষের জন্য শীত মোকাবিলা করাটা খুব কষ্টের ব্যাপার। অনেকেরই ঠিকমতো গরম কাপড় নাই। বিশেষ করে রাতত আর ভোরবেলা খুব ঠান্ডা পড়ে। এতে ছোট বাচ্চা আর বুড়া মানুষগুলোর খুব কষ্ট হয়।’

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের শীতকালীন দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তাদের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা আগাম শীত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারেন। এ ছাড়া শীত মৌসুমে সরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স