|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

‘আমি বাঁচতে চাই, মরে গেলে সন্তান দুটির কী হবে?’

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
৩৬০ পঠিত
‘আমি বাঁচতে চাই, মরে গেলে সন্তান দুটির কী হবে?’
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হেনা আক্তারের চিকিৎসা অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দুই সন্তানের জননী এই নারী একসময় চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে সংসার চালাতেন। এখন অসুস্থতার কারণে নিজেই শয্যাশায়ী। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায়...

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হেনা আক্তারের চিকিৎসা অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দুই সন্তানের জননী এই নারী একসময় চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে সংসার চালাতেন। এখন অসুস্থতার কারণে নিজেই শয্যাশায়ী। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

হেনা আক্তার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের খালুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা কালাচান ফকির ও স্বামী বাবুল মিয়া দুজনই খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। এর মধ্যে হেনার ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের জমানো টাকাও শেষ হয়ে গেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শারীরিক দুর্বলতায় ঘরের বারান্দায় শুয়ে আছেন হেনা। ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। কিছু খেতে গেলে বুকে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়, এমনকি গলা দিয়ে রক্তও পড়ে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হেনা বলেন, ‘আমি বাঁচতে চাই। আমি মরে গেলে সন্তান দুটির কী অবস্থা হবে? সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে সাহায্য করুন।’

হেনার বাবা কালাচান ফকির বলেন, অর্থের অভাবে মেয়ের যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারছেন না তারা। দিন দিন হেনা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। আগে কিছুটা হাঁটাচলা করতে পারলেও এখন আর তা পারছেন না। সহৃদয় ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে মেয়ের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা তার।

হেনার ভাই সারোয়ার হোসেন বলেন, তার বোনের ছোট দুটি সন্তান এখনো মায়ের অসুস্থতার বিষয়টি বোঝার বয়সে পৌঁছায়নি। সন্তানদের কথা চিন্তা করেই হেনা বাঁচতে চান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের একটু সাহায্য পেলে হয়তো ও সুচিকিৎসা পাবে এবং অবুঝ বাচ্চা দুটি তাদের মাকে হারাবে না।’

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। হেনার নাম-ঠিকানা পেলে তার জন্য কী করা যায়, তা দেখবেন বলেও জানান তিনি।

হেনার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।

সূত্র: কালবেলা