|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এসএমই ফাউন্ডেশনের জাতীয় নারী-উদ্যোক্তা সামিট, ৮ জন পেলেন সম্মাননা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
৩১৯ পঠিত
এসএমই ফাউন্ডেশনের জাতীয় নারী-উদ্যোক্তা সামিট, ৮ জন পেলেন সম্মাননা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
নারী-উদ্যোক্তাদের অর্জন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরতে জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিটের আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের আট বিভাগের আটজন সফল নারী-উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী-উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ তৈরি এবং ব্যবসা...

নারী-উদ্যোক্তাদের অর্জন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরতে জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিটের আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের আট বিভাগের আটজন সফল নারী-উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী-উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ তৈরি এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে আয়োজন করা হয়েছে পণ্য মেলা, ম্যাচমেকিং, সেমিনার ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠান।

৫ থেকে ৭ নভেম্বর রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) প্রাঙ্গণে এ সামিট, পণ্য মেলা ও ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচমেকিং অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শিল্পসচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য মো. নূরুজ্জামান এবং বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিমউল্লাহ। সামিটের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাজিম হাসান সাত্তার।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘নারী-উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তার জন্য ডিসপ্লে সেন্টার স্থাপন করা হবে।’

শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, ‘একজন নারী-উদ্যোক্তার সাফল্য অন্য নারীর জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।’ নারী-উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ঋণপ্রাপ্তি এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এসএমই ফাউন্ডেশন সহায়তা দেবে বলেও জানান সচিব।

অনুষ্ঠানে আট বিভাগের আটজন নারী-উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ীর সাগুফতা সুলতানা, চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটির মঞ্জুলিকা চাকমা, রাজশাহী বিভাগের আফরোজা আজিজ মুন্নি, খুলনা বিভাগের যশোরের মরিয়ম নার্গিস, বরিশাল বিভাগের বিলকিস আহমেদ লিলি, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুরের হেনা খাতুন, রংপুর বিভাগের উম্মে কুলসুম পপি এবং সিলেট বিভাগের শান্তনা রয়েছেন।

আয়োজকরা জানান,  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ খাতে নারী-উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও অর্থায়ন, বাজারসংযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা, ব্র্যান্ডিং, মানসম্মত পণ্য উন্নয়ন, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এবং মানসিক সুস্থতাসহ (ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স) বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। নারী-উদ্যোক্তাদের অর্জন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। 

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৬০ জন নারী-উদ্যোক্তা তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। প্রদর্শনীতে পোশাক ও ফ্যাশন পণ্য, হস্তশিল্প, কারুশিল্প, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, গৃহসজ্জা, লাইফস্টাইল পণ্য, জুয়েলারি, প্রসাধনী, কৃষিজাত পণ্য এবং ডিজিটাল ও সৃজনশীল সেবা স্থান পায়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত ছিল।

এ ছাড়া এছাড়া মেলায় সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, সুপারশপ ও রিটেইল চেইন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ডিস্ট্রিবিউটর ও পাইকারি ক্রেতা, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড, রপ্তানিকারক এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের নারী-উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ, উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প, ব্যবসা শুরুর চ্যালেঞ্জ, অর্থায়ন, বাজার তৈরি, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন ব্যবসা, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা আড্ডা ও সেমিনার, উদ্যোক্তা জীবনের চাপ, মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য, ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, আত্মবিশ্বাস এবং সহায়তা চাওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সেশন, নারী-উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়।

এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পপ্রতিষ্ঠান। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতে। এতে কর্মরত রয়েছেন ৩ কোটিরও বেশি মানুষ।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সুবিধা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী-উদ্যোক্তা। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এসএমই খাতের ভূমিকা আরও জোরদার করতে জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স