|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কেয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যে ৭ শ্রেণির মানুষ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
২৩২ পঠিত
কেয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন যে ৭ শ্রেণির মানুষ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কেয়ামতের মহা ময়দানে মানুষকে চরম অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সেদিন সূর্য মানুষের মাথার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করবে এবং এর প্রচণ্ড তাপে চরাচর এক দুঃসহ অবস্থায় রূপ নেবে। স্বাভাবিক নিয়মে এই তীব্র তাপে মানুষের পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, মহান আল্লাহর বিশেষ কুদরতে সেদিন কারো মৃত্যু হবে ন...

কেয়ামতের মহা ময়দানে মানুষকে চরম অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সেদিন সূর্য মানুষের মাথার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করবে এবং এর প্রচণ্ড তাপে চরাচর এক দুঃসহ অবস্থায় রূপ নেবে।

স্বাভাবিক নিয়মে এই তীব্র তাপে মানুষের পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, মহান আল্লাহর বিশেষ কুদরতে সেদিন কারো মৃত্যু হবে না; কারণ মৃত্যুর ধারাবাহিকতা দুনিয়াতেই শেষ হয়ে গেছে। সেদিন মানুষের কষ্টের মাত্রা যে কত ভয়াবহ হবে, তা অতি সহজেই অনুমেয়। এমন এক সংকটময় দিনে, যখন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়াই অবশিষ্ট থাকবে না, তখন পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা বিশেষ সাতটি শ্রেণির মানুষকে তার আরশের নিচে আশ্রয় দান করবেন।

সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিমের কালজয়ী হাদিসের আলোকে ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার সাম্প্রতিক এক আলোচনায় পরকালের এই পরম সৌভাগ্যবান মানুষদের পরিচয় ও বিশেষ গুণাবলি তুলে ধরেছেন। কালবেলার পাঠকদের জন্য নিচে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো:

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক

আরশের ছায়াপ্রাপ্তদের তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছেন ন্যায়পরায়ণ শাসক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তিনি এমন শাসক যিনি শাসনকাজে কোনো প্রজার ওপর জুলুম করেননি এবং বিচারে কখনো অন্যায় বা পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেননি। ক্ষমতার অপব্যবহার না করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাই এই ব্যক্তির মূল গুণ।

২. ইবাদতের মধ্যে বেড়ে ওঠা যুবক

দ্বিতীয় শ্রেণি হলেন সেই যুবক, যিনি তার জীবনের সবচাইতে প্রাণবন্ত ও উত্তাল সময় অর্থাৎ যৌবনকালকে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যে অতিবাহিত করেছেন। তারুণ্যের উদ্দাম সময়ে পাপের নানা প্রলোভন জয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালিত করা এই যুবকের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

৩. মসজিদের প্রতি অনুরাগী হৃদয়

তৃতীয়ত, এমন ব্যক্তি যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে যুক্ত থাকে। তিনি কখন মসজিদে যাবেন এবং সালাত আদায় করবেন—এই চিন্তা ও ব্যাকুলতা সবসময় তার অন্তরে বিরাজ করে। পার্থিব শত ব্যস্ততার মধ্যেও সালাতের আহ্বানে মসজিদের পানে ধাবিত হওয়ার এই মানসিকতা অত্যন্ত মর্যাদাশীল।

৪. আল্লাহর ওয়াস্তে পরস্পরকে ভালোবাসাকারী দুজন ব্যক্তি

চতুর্থ শ্রেণি হলেন এমন দুজন ব্যক্তি, যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একে অন্যকে ভালোবেসেছেন। তারা আল্লাহর দ্বীনের স্বার্থেই একত্রিত হন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যেই পরস্পর থেকে পৃথক হন। পার্থিব কোনো স্বার্থ বা লোভ-লালসা নয়, বরং খাঁটি ইমানি সম্পর্কই তাদের বন্ধনের ভিত্তি।

৫. অনৈতিকতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকারী তাকওয়াবান ব্যক্তি

পঞ্চম ব্যক্তি হলেন এমন একজন সচ্চরিত্র পুরুষ, যাকে কোনো রূপসী ও সম্ভ্রান্ত নারী অনৈতিক বা হারাম সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি পরকালের জবাবদিহিতা ও আল্লাহর ভয়ে পরম সৎসাহসের পরিচয় দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’। পাপাচারের সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও খোদাভীতির কারণে আত্মসংযম রক্ষা করা তার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৬. গোপন দানকারী

ষষ্ঠ শ্রেণি হলেন সেই দানশীল ব্যক্তি, যিনি এত সংগোপনে ও গোপনে দান-সদকা করেন যে, তার ডান হাত কী দান করল, বাঁ হাতও তা টের পায় না। লোকদেখানো মানসিকতা বা রিয়ার লেশমাত্র না রেখে কেবল আল্লাহর দরবারে কবুলিয়াতের আশায় গোপনে মানবকল্যাণ করা এই শ্রেণির অনন্য গুণ।

৭. একাকী আল্লাহর স্মরণে অশ্রুপাতকারী সাধক

সপ্তম ও সর্বশেষ শ্রেণি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি নিঃসঙ্গ ও নির্জন অবস্থায় একা একা মহান আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং আল্লাহর ভয়ে যার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহর মহিমা অনুধাবন করে ও নিজের গোনাহের ভয়ে রোদন করা এই নিষ্ঠাই তাকে আরশের ছায়াপ্রাপ্তদের কাতারে উন্নীত করে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স